ঢাকাTuesday , 28 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যে কারণে অনন্য আব্দুল কালাম

Link Copied!

kalamআন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আব্দুল কালাম কেবল কর্মক্ষেত্রেই সফল ছিলেন এমন নয়, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। মানুষের প্রতি তার ছিল অসীম ভালোবাসা। শুধু মানুষ নয়, পশুপাখিসহ এই জগতের সবার প্রতি ছিল তার অপরিসীম সহমর্মিতা। জাতি, ধর্ম রাজনীতি এই সবকিছুর উর্ধ্বে ছিলেন তিনি।
১. তখন তিনি কাজ করেন ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সংক্ষেপে ডিআরডিও’তে। সেখানে একদিন ওই ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে অধঃস্তনদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এক কর্মকর্তা সুরক্ষার স্বার্থে ভবনের প্রাচীরের মাথায় কাচের টুকরা লাগানোর প্রস্তাব দিলে তিনি তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কাচ লাগালে দেয়ালে তো আর পাখি বসতে পারবে না।’
২. ভারতের তরুণ সম্প্রদায়ের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। তরুণ-কিশোররা প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করতে আসতো। শুধু দেখা করাই নয় মনোযোগী শ্রোতার মতো তিনি তাদের নতুন ধারণাগুলো শুনতেন।
৩. তিনি ভারতের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন এই ঘোষণার কিছুদিন পরেই তিনি এক স্কুল পরিদর্শনে গেলেন। সঙ্গে তেমন কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থাতেই তিনি প্রায় চারশ শিক্ষার্থীর উদ্দেশে বক্তব্য দিতে শুরু করলেন।  এসময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। কিন্তু তিনি এতে মোটেও বিচলিত হলেন না। উপস্থিত সব ছাত্রছাত্রীকে একসঙ্গে গোল হয়ে দাঁড়াতে বললেন। তারপর খালি গলাই বক্তব্য দিতে শুরু করলেন।
৪. রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর কালাম সারাজীবনের সঞ্চয় আর বেতন দিয়ে গ্রামাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য প্রোভাইডিংস আরবান এমেনিটিস টু রুরাল এরিয়াস বা পুরা নামের একটি ট্রাস্ট গড়ে তুলেছিলেন। ভারতে প্রেসিডেন্টের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার বহন করে থাকে এই কথা জানার পরই তিনি নিজের সমস্ত অর্থ ট্রাস্টে দিয়ে দেন। এ সম্পর্কে তিনি ভারতের বিখ্যাত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আমুল’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ড. ভার্গিস কুরেনকে বলেছিলেন, ‘এখন আমি ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছি। যতদিন এই দায়িত্বে থাকব সরকারই আমার দেখাশোনা করবে। আমার তো কোনো খরচ নেই। এত টাকা পয়সা আর বেতন দিয়ে কী করব? তাই দান করে দিলাম।’
৫. রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তার দপ্তর থেকে পাঠানো সব শুভেচ্ছা কার্ডে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করতেন। এক্ষেত্রে কারো সাহায্য তার পছন্দ ছিল না।  একবার নামান নারায়ন নামের এক চিত্রশিল্পী রাষ্ট্রপতি কালামের স্কেচ এঁকে তাকে উপহার দিয়েছিলেন। তিনি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে যে কার্ডটি পাঠিয়েছিলেন তা দেখে শিল্পী তো অবাক! কারণ সেখানে রাষ্ট্রপতি নিজ হাতে তার নাম স্বাক্ষর করেছিলেন।
৬. তিনি তখনও রাষ্ট্রপতি হননি। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সংক্ষেপে ডিআরডিও’র দায়িত্বে আছেন। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন। তখন এক কলেজে তার প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি দেখার জন্য আগের দিন রাতে তিনি জিপে করে সরাসরি ভেন্যুতে চলে গেলেন। এসময় তার সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মীও ছিল না। তিনি ভেন্যুতে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। আসলে ওই অনুষ্ঠানের পেছনের কর্মীবাহিনীকে দেখতে চেয়েছিলেন। এ সম্পর্কে তার বক্তব্য ছিল, ‘এরাই তো প্রকৃত পরিশ্রমী।’

৭. সম্প্রতি তিনি আহমেদাবাদে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজম্যান্ট (আইআইএম) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত ছিল ৬০ জন শিক্ষার্থী। কালামকে পেয়ে তারা তো মহাখুশী। সবাই তার সঙ্গে আলাদা করে ছবি তুলতে চায়। সময় কম দেখে আয়োজকরা তাড়া দিতে লাগলেন। তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি আয়োজকদের  বললেন, সবাই তার সঙ্গে আলাদা করে ছবি না তোলা পর্যন্ত তিনি ওই স্থান ত্যাগ করবেন না।
৮. সম্প্রতি বারানসি আইআইটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ড. কালাম ছিলেন প্রধান অতিথি। সেখানে স্টেজে পাঁচটি চেয়ার ছিল। মাঝখানের বড় চেয়ারটি ছিল ড. কালামের জন্য। বাকি চারটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। অন্য চেয়ারগুলোর তুলনায় নিজের চেয়ারটি আকারে বড় হওয়ায় তিনি ওই চেয়ারে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে মহামান্য সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্য অবিলম্বে অন্য একটি সাধারণ চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এমনই ছিল তার সাম্য জ্ঞান!
৯. ড. কালাম তখন ডিআরডিওতে কাজ করেন। একদিন তার অধীনস্ত  এক বিজ্ঞানী তাড়াতাড়ি বাড়ি যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। কারণ তিনি তার বাচ্চাদের নিয়ে একটি প্রদর্শনীতে যাবেন। কালাম সঙ্গে সঙ্গে তার ছুটি মঞ্জুর করলেন। কিন্তু কাজ করতে করতে বাড়ি ফেরার কথা ভুলেই গেলেন ওই বিজ্ঞানী। কাজ শেষে তিনি ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরলেন। কিন্তু বাড়ি গিয়ে দেখেন বাচ্চারা সব উধাও। ব্যাপার কী? তখন স্ত্রী জানালেন, বিকেলে তার বস অর্থাৎ আব্দুল কালাম এসে বাচ্চাদের প্রদর্শনী দেখাতে নিয়ে গেছেন!
প্রকৃত ঘটনা ছিল- ড. কালাম অনেক্ষণ ধরে ওই বিজ্ঞানীকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি যখন দেখলেন কাজপাগলা বিজ্ঞানী বাড়ি যাওয়ার কথা ভুলে গেছেন তখন তিনি নিজেই বাচ্চাদের প্রদর্শনীতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সহকর্মীদের প্রতি কী সুন্দর সহমর্মিতা!
১০. তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ইয়াহুতে একটি উত্তর চাইছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘আমাদের গ্রহকে সন্ত্রাসের হাত থেকে মুক্ত করতে আমাদের কী করতে হবে? তখন বহু বিখ্যাত লোকজন এর উত্তর দিলেন। শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর, কিরণ বেদী, লেন্ডার পায়েসের বক্তব্য মানুষ পছন্দ করল। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশই ইয়াহুতে যুক্ত হলো।

১১. রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কেরালা সফরে গেছেন কালাম। ওই রাজ্যের রাষ্ট্রপতি ভবনে তার আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন এক মুচি আর এক ক্ষুদ্র হোটেলওয়ালা!
কেরলার ত্রিবানদ্রুমে বিজ্ঞানী হিসেবে অনেক সময় কাটিয়েছেন আব্দুল কালাম। তখন কেরালায় রাস্তার ধারে বসে থাকা ওই মুচির সঙ্গে তার সখ্য হয়। সেখানে এক হোটেলে তিনি প্রায়ই খাবার খেতেন। ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরও তিনি পুরনো বন্ধুদের কথা ভোলেননি। কেরালার রাজভবনে অনেক গণ্যমান্য লোকজনের সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তিও রাষ্ট্রপতি কালামের বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এটা কি অন্য কোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে ভাবা যায়!
১২. ভারতের মহাকাশ বিজয়ে তার রয়েছে অসামান্য অবদান। যে গুটিকয়েক বিজ্ঞানী তখন ভারতের মহাশূন্য গবেষণা সংস্থা সংক্ষেপে আইএসআরও’তে কাজ করেছেন তাদের অন্যতম হলেন এপিজে আব্দুল কালাম। তাদের মহাশূন্য যাত্রার কাজ শুরু হয়েছিল এক সমুদ্র সংলগ্ন গির্জা এবং তার আশপাশের এলাকায়। ৭০ ও ৮০ দশকে সাইকেল আর গরুরগাড়িতে করে স্যাটেলাইটের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বয়ে আনা হয়েছিল। ভারতের স্পেস লঞ্চ ভেহিকেল বা মহাশূন্য উৎক্ষেপণ যান সংক্ষেপে এসএলভি প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন ড. কালাম। এই প্রকল্প থেকেই আশির দশকে পৃথিবীর কাছে ‘রোহিনী’ উপগ্রহ স্থাপন করেছিল ভারত।