ঢাকাTuesday , 28 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সর্বস্ব বিক্রি করেও বন্ধের পথে বৃদ্ধাশ্রম
ফের অনিশ্চয়তায় ২০ বৃদ্ধা মায়ের জীবন

Link Copied!

Old-Homeঝিনাইদহ প্রতিনিধি : জীবনের স্বর্ণ সময়ের পুরোটাই পার করেছেন স্বামী আর সন্তানের পেছনে। কিন্তু জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে উপেক্ষিত এই বৃদ্ধ মায়েরা। নানা অভাব অনটনে বিপর্যস্ত তাদের জীবন। দু’বেলা দু’মুঠো ভাতও মিলতনা তাদের, নেই মাথা গোঁজার একটু জায়গাও। এমন দুর্দশা দেখা ইসমাত আরা নামের এক নারী বৃদ্ধা ওই মায়েদের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন নিজের বাড়িতেই। ছোট পরিসরে গড়ে তোলেন বৃদ্ধাশ্রম। চলাচ্ছিলেনও ভালো ভাবেই। কিন্তু প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মাথায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়ায় ব্যয়ভার বহন করতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেন নিজেদের জমি বিক্রি করার। ইতোমধ্যে ঘরভিটা আর একটি পুকুর ছাড়া সবই বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে চালিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রম। কিন্তু খরচ জোগার করতে না পারায় আজ বৃদ্ধাশ্রমটি বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
হ্যাঁ পাঠক, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়া গ্রামের শফিউদ্দিনের স্ত্রী ইসমত আরা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ নিজের বাড়ির আঙিনায় বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুলেছিলেন। যা চালাতে গিয়ে তিনি গত দুই বছরে স্বামীর ৭ বিঘা আবাদী জমি বিক্রি করেছেন। এখন আর তিনি পেরে উঠছেন না। তাই ইসমাত আরার এই উদ্যোগকে সমনের দিকে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
বৃদ্ধাশ্রমে গেলে প্রতিষ্ঠাতা ইসমাত আর জানান, ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ নিজের বাড়ির আঙিনায় বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তোলেন তিনি। একমাত্র কন্যা সন্তান উম্মে কুলসুম নিশেনা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় লেখাপড়া করেন। স্বামীর ৭ বিঘা আবাদী ও বাড়ির ২ বিঘা জমির ফসল ও ব্যবসা থেকে ভালোই চলছিল ২০ জন বৃদ্ধা মায়েদের নিয়ে সংসার।
ব্যবসায়ী স্বামী যা আয় করতেন পুরোটাই বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য খরচ করতেন ইসমত আরা। কিন্তু বিধি বাম। হঠাৎ করেই স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার চিকিৎসার ভার আর বৃদ্ধাশ্রম চালাতে শুরু হয় আর্থিক অনটন। নিজের মায়ের মত বৃদ্ধাশ্রমের ২০ জন অধিবাসীকে ছেড়েও দিতে পারছে না। উপায় না পেয়ে স্বামীর মাঠের আবাদী জমি বিক্রি শুরু করেন। এক এক করে ৭ বিঘা জমি বিক্রি করেন তিনি। বাড়ির ২ শতক জমি বৃদ্ধাশ্রমের নামেও লিখে দেন। জমি জায়গা বিক্রি করে বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে এখন পড়েছেন বিপাকে। বৃদ্ধা মায়েদের জন্য যে টিনের ছাপড়া করে দিয়েছিলেন সেটাও পুরোনো হয়ে গেছে। রোদ আর বৃষ্টিতে কষ্ট করেই আছেন বৃদ্ধা মায়েরা। উপায় না পেয়ে ২০ জনের ভিক্ষা একাই করছেন ইসমত আরা। নিজের গ্রাম ও পাশের গ্রামে গিয়ে সমাজের মানুষের কাছ থেকে সাহায্যে আবেদন করেন তিনি।
জোড়াপুকুর গ্রামের কৃষক রবজেল হোসেন বলেন, ‘আমি দেখেছি যখন ইসমত আরার স্বামী সুস্থ ছিল। ব্যবসা করে যা আয় করতো তা বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের জন্য খরচ করতো। এখন তিনি অসুস্থ তবুও বৃদ্ধাশ্রমটি বন্ধ করেন নি। নিজের মাঠের জমি বিক্রি করে চালিয়েছেন। মাঠের জমি শেষ এখন কি করবে। সমাজের উচ্চবিত্তদের তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর।’
একই গ্রামের ব্যবসায়ী আবু তালেব জানান, শুরু থেকে বৃদ্ধাশ্রমটি ভালোভাবে চললেও এখন আর আগের মত খরচ করতে পারেন না তিনি। গ্রামের কিছু মানুষ সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু এভাবে আর কতদিনই বা চলবে।
বৃদ্ধাশ্রমের ষাটোর্ধ বাসিন্দা নিমরি খাতুন জানান, তার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর আগে। ছেলেমেয়েরা ঠিকমত খেতে পরতে দিত না। তাই এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছেন তিনি। প্রথম কিছুদিন ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু এখন আর আগের মত চালাতে পারছে না ইসমত আরা। জমি জায়গা সব শেষ। যে ঘরে তারা থাকেন সেটাও নষ্টের পথে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে।
ঠেকারী বেগম নামের আরেকজন জানান, বৃদ্ধাশ্রমের শুরু থেকেই তিনি আছেন। আগে কোন সমস্যা না হলেও এখন সমস্যা হয়। খাবারের কোন সমস্যা না হলেও পোশাক-আশাকের সমস্যা। যেটুকু জায়গার উপর তারা থাকেন সেখানে একটি ঘর থাকলে ভালো হত বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে বৃদ্ধ্রাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ইসমত আরা বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমি বৃদ্ধাশ্রমটি শুরু করি। আমার স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর থেকে একটু সমস্যা হচ্ছে। বৃদ্ধা মায়েদের মাছ-মাংস দিয়ে খাবার দিতে না পারলেও দুবেলা দু’মুঠো ডাল-ভাত দিতে পারছি। আবাদী জমি সবই বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে বাড়ির পুকুর আর কিছু জমি আছে। সেখানেই শাক-সবজি আর মাছ চাষ করে কোনমত চালাচ্ছি। হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে খোঁজ খবর নেয়া হয়ে থাকে। এবারের ঈদে হরিণাকুন্ডু উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ মজিদ ২০ টি শাড়ী দিয়েছেন। তারপরও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি একটু নজর দিত তাহলে ২০ জন বৃদ্ধা মায়েদের নিয়ে একটু বাঁচতে পারতাম।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহে জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘আমি হরিণাকুন্ডু উপজেলার জোড়াপুকুরিয়ার বৃদ্ধাশ্রমটিতে গিয়েছি। সেখানে কিছু সমস্যা রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আবেদন করতে বলেছি। সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যদি কোনো আর্থিক সহযোগিতার সুযোগ থাকে তাহলে তাদের সহযোগিতা দেয়া হবে।’