নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আমরা বাঙালিরা বেশি কথা বলতে পছন্দ করি’ এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের এ দেশে এখন প্রায় ১২ কোটি ৬৮ লাখের বেশি মানুষ বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিম ব্যবহার করছে। এটা শুনলে অনেকে অবাক হয়।’
মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
বাংলাদেশের মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারের দিক থেকে যথেষ্ট দক্ষ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা ৪ কোটি ৮০ লাখ। ৪ কোটি ৮০ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহার কিন্তু কম কথা না। এটারও ব্যপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা প্রতিটি পৌরসভা ও উপজেলাকে ডিজিটাল করছি।’
দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১৩ হাজার ৭২৫ মেগাওয়াট দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কারণে আজ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা ১৩ হাজার ৭২৫ মেগাওয়াটে উন্নিত হয়েছে। এখানে জেনারেটরের মাধ্যমে আরো দুই হাজার ৮শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে।’
এক সময় পল্লী বিদ্যুতের কার্যক্রম প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছিল, তারা আবার নতুন করে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনটা এখন বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব এলাকায় গ্রিড লাইন নেই সেসব এলাকায় সোলার ও বায়োগ্যাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি এলাকায় সোলার প্যানেল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ সোলার ও বায়োগ্যাস প্যানেল করার জন্য যাতে প্রতিটি জেলায় পদক্ষেপ নেয়া হয় তার জন্য বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করতে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আছে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নিত করার। ২০ হাজার করলেও আমাদের টার্গেট কিন্তু আরো বেশি। আমরা প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই। অর্থাৎ প্রতিটি ঘরে ঘরে আমরা আলো জ্বালাতে চাই। আর সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
শিক্ষার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষাকে আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। কেননা শিক্ষিত জাতি ছাড়া কেউ কখনো উন্নত হতে পারে না। শিক্ষা সম্প্রচারের পাশাপাশি আমরা গুণগত মানোন্নয়ন করা, ঝড়ে পড়া রোধে আমরা ইতোমধ্যে অনেকগুলো কর্মসূচিও হাতে নিয়েছি। স্কুল টিমের ব্যবস্থা করেছি। এটা আমরা খুব সফলতার সাথে করেছি। বিভিন্ন উপজেলায়ও এই স্কুল কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কিছুটা আমরা করেছি বিদেশি সহায়তায়। কিন্তু আমি মনে করি আমরা স্বপ্রণোদিত হয়েই এই কাজটা করতে পারি। তাহলে কিন্তু আমাদের অন্যের উপর নির্ভর করতে হবে না। আমরা নিজেরাই করতে পারবো।’
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘মানুষকে সম্পৃক্ত করাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্কুল থাকে যেখানে একটি স্কুল কমিটি থাকে। স্কুল কমিটি, অভিভাবক, স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধি ও স্থানীয় যারা স্বচ্ছল ব্যক্তি তাদের সম্পৃক্ত করেই কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় স্কুল কর্মসূচিটা বাস্তবায়ন করা যায়।’
প্রতিটি স্কুলে ঝড়ে পড়া রোধ ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির জন্য একটি করে স্কুল অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি স্কুলে যদি একটা করে অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া হয় তাহলে কিন্তু সেখানে অনেকেই অনুদান দেবে। এবং সেটাই ওখানে জমা থাকতে পারে। পাশাপাশি যখন দেশে ফসল ওঠে তখন কিন্তু মানুষ দান করে। ওইভাবে এলাকাভিত্তিক যদি আমরা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী আর থাকবে না। যারা শিক্ষাগ্রহণ করবে তাদের জন্যও একটা ভালো ব্যবস্থা হবে।’ শুধু স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেই চলবে না সেই প্রতিষ্ঠানের মানও যেন ভালো হয় তার জন্য তিনি প্রত্যেককে সচেষ্ট থাকার পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশে কোনো নিরক্ষর মানুষ থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যখন ৯৬ সালে ক্ষমতায় ছিলাম তখন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম, অবশ্য তার ফলও আমরা পেয়েছিলাম। আমাদের স্বাক্ষরতার হারও বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর অনেক কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০০১ থেকে যে স্বাক্ষরতার হার হ্রাস পেয়েছিল তা আমরা আবার এসে অর্জন করতে পেরেছি। আমরা চাই কোনো মানুষ আর নিরক্ষর থাকবে না।’
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো চালু আছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯৬৯টি চালু হয়েছে, আরো ৮৮২টি নির্মাণাধীন। সবমিলে আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। ক্লিনিকগুলোতে বিনাপয়সায় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’ এসব কার্যক্রম যাতে প্রতিনিয়ত চলে তার জন্য নজরদারি রাখারও তিনি ডিসিদের নির্দেশ দেন।

