বান্দরবান প্রতিনিধি : সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে। অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবান-কেরানীহাট চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের বরদুয়ারা এলাকায় সড়কে ৪-৫ ফুট পানি জমেছে। ফলে চতুর্থ দিনের মতো বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটিসহ অভ্যন্তরীণ সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এদিকে, ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খবার দেয়ার কথা বলা হলেও অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছেনি কোনো ত্রাণ সহযোগিতা। ফলে ওইসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উঁচু এলাকা থেকে পানি নামলেও নিন্ম এলাকাগুলো এখনো পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। প্লাবিত এলাকার লোকজন এখনো বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে। এলাকার টিউবওয়েল গুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পাশাপাশি দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট।
গত পাঁচ দিন ধরে বান্দরবানে অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলা সদরসহ লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নিন্মঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। প্লাবিত এলাকার লোকজন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা না পাওয়ায় ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে।
এছাড়া, পাহাড় ধসের ফলে অভ্যন্তরীণ সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় রুমা ও থানছি উপজেলায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতরাত থেকে বৃষ্টি একটু কমে যাওয়ায় বান্দরবানের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জরুরিভাবে খোলা কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি সর্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

