পাবনা প্রতিনিধি : স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টম্যানসহ বিভিন্ন পদে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগের ৫৯টি স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ট্রেন অপারেটিংয়ে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন সমস্যা। পাশাপাশি ক্রসিং সমস্যার কারণে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলছে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনগুলো। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
এক সময় যাত্রীদের পদভারে মুখর ছিল পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুয়াখড়া স্টেশন। কিন্তু সেগুলো এখন অতীত। বর্তমানে স্টেশনটিতে সাইনবোর্ড ছাড়া আর কিছু চোখে পড়ে না। নেই স্টেশন মাস্টার বা বুকিং সহকারী। একজন মাত্র পোর্টার রমজান আলী ভাঙাচোরা অফিসটি দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত। যেখানে থামে না কোনো আন্তঃনগর ট্রেন। স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভের শেষ নেই এ অঞ্চলের মানুষের।
শুধু গুয়াখড়া স্টেশনই নয়, এমন অবস্থা জেলার ভাঙ্গুড়, শরৎনগর স্টেশনসহ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগের ৫৯টি স্টেশনের। লোকবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব স্টেশন বন্ধ থাকায় শিডিউল বিপর্যয়সহ ভোগান্তি বেড়েছে যাত্রীদের।
গুয়াখড়া গ্রামের বাসিন্দা পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর মোজাহার আলী ও এক নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর খাইরুল ইসলাম জানান, এক সময় প্রচুর যাত্রী গুয়াখড়া স্টেশন থেকে যাতায়াত করতো। ১৫-২০ বছর ধরে স্টেশনটি বন্ধ হয়ে আছে। এখানে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না। বন্ধ থাকায় অন্য স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়।
পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেক বলেন, ‘স্টেশনটি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, স্টেশনটি চালু করে ও আন্তঃনগর ট্রেন স্টপেজ দিলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।’
গুয়াখড়া স্টেশনের পোর্টার রমজান আলী বলেন, ‘বিগত ৫-৬ বছর ধরে স্টেশনটি পুরোপুরি বন্ধ আছে। বুকিং সহকারী বা অন্য কোনো লোকবল এখানে নেই। শুধু আমি অফিস পাহারা দিচ্ছি। যদি স্টেশনটি চালু করা যায় তাহলে বছরে এখান থেকে কমপক্ষে আট লাখ টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব।’
চাটমোহর স্টেশন মাস্টার মহিউল ইসলাম বলেন, ‘একটি স্টেশনে যদি স্টেশন মাস্টার না থাকে অর্থাৎ যদি স্টেশন বন্ধ থাকে তাহলে মাঝখানের স্টেশনটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে ট্রেন ক্রসিংয়ে দেখা মারাত্বক সমস্যা। যাত্রীদের চাপ বাড়ে আশপাশের স্টেশনে। এতে করে দেখা দেয় শিডিউল বিপর্যয়।’
পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল বলেন, ‘পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মোট ১১৩টি স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে বন্ধ আছে ৫৯টি স্টেশন। এর মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ ৪২টি এবং আংশিক বন্ধ ১৭টি স্টেশন। এছাড়া স্টেশন মাস্টারের মোট ৩৬৩টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫৮ জন এবং শুন্য পড়ে আছে ২০৫টি পদ। পয়েন্টম্যান ৪৬৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ৩৬৯ জন, শুন্য ৯৪টি। গেটকিপারের ১১৫টি পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ১০ জন, শূন্য ১০৫টি পদ। এছাড়া ১৩৫টি গার্ডের পদে কর্মরত ১০৮ জন, শুন্য ২৭টি।’
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো: আফজাল হোসেন জানান, স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টম্যান, গেটকিপার পদে লোকবল সঙ্কট থাকায় স্টেশনগুলো বন্ধ আছে। এ কারণে ট্রেন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। স্টেশনগুলো চালু থাকলে ক্রসিং ব্যবস্থাপনার কাজটি করা যেত। আগে যেখানে প্রয়োজন হলে ১০ কিলোমিটার পর পর ক্রসিং করা যেত এখন সেখানে ২০ কিলোমিটার পর গিয়ে ক্রসিং করতে হচ্ছে। এই অবস্থার সহসা সমাধান সম্ভব নয়।
তবে এত সমস্যার মাঝেও গত অর্থ বছরে ২২৩ কোটি টাকা আয় করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। যা তার আগের অর্থ বছরের চেয়ে ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। তাই জরুরী ভিত্তিতে স্টেশন মাস্টার, পয়েন্টম্যান, গেটকীপারসহ অন্যান্য শূন্য পদে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা না হলে ট্রেন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

