অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ঈদের ছুটির আমেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি রাজধানী ঢাকায়। ফলে গণমানুষের ঢল নেই পথে। ফলশ্রুতিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি খোলেনি। এ অবস্থায় রাজধানীতে নিত্য পণ্যের বাজার দর হয়েছে ঊর্ধ্বমুখি। বিশেষ করে পেঁয়াজ, ডিম, পোলাও চাল, ডালের দাম বেড়েছে। তবে চিনিসহ কয়েকটি পণ্যের দাম কমেছে।
শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, কাপ্তানবাজার, সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ঈদের পর রাজধানীতে লোক সমাগম খুবই কম। কাঁচাপণ্যের আড়ৎগুলো তেমন জমে ওঠেনি। আড়তের বেশিরভাগ গদিই বন্ধ। বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে আমদানি কম। এ সুযোগে যারা আমদানি করছেন তারা পাইকারী বাজারে দর কিছুটা বাড়তি রাখছেন। এ কারণে খুচরা বাজারে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্য বিক্রি করতে হয়। এ কারণে ঈদের পর পণ্যের দর তুলনামূলক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি লাল লম্বা বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, সাদা গোলাকার বেগুন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়, মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, শশা ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, গাজর ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, ধনিয়া পাতা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, পেঁপে ১৮ থেকে ২০ টাকায়, টমেটো ৮০ থেকে ৯০ টাকায়, করলা ২৫ থেকে ৩০ টাকায়, ভেন্ডি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, কাকরল ৪০ থেকে ৪২ টাকায়, ঝিঙ্গা ৩৮ থেকে ৪২ টাকায়, সাদা গোল আলু ২২ টাকায়, ধোন্দল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, কচুর ছড়ি ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, মূলা ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়, বটবটি ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়, কহি ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকায়, উস্তা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সাদা ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০টাকায়, লাল মুরগি ১৮৫ টাকা থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়।
ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির লাল ডিমের পাইকারী দাম ৩২ টাকা, যা খুচরা বাজারে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিম হালি ৪০ থেকে ৪২ টাকা; যা পাইকারী বাজারে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দয়াগঞ্জ কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মোশারফ জানান, পেঁয়াজের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। মানভেদে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে; যা আগে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এছাড়া বিদেশি পেঁয়াজ ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রসুনের দাম আগের চেয়ে কমেছে। চীন থেকে আমদানি করা রসুন প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা ঈদের আগে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতো। একই সঙ্গে দেশি রসুন প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা ঈদের আগে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
সেগুনবাগিচা বাজারের ব্যবসায়ী শরীয়তপুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম বলেন, ‘বাজারে পোলাও চাল, দেশি ডালের দাম বাড়তি। দেশি মসুরের ডাল প্রতিকেজি ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা; যা ঈদের আগে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মুগ ডাল প্রতিকেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং অ্যাংকর ডাল ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি ছোলা ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
বাজারে প্রতিকেজি ভালো মানের (এরফান) পোলাও চাল ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটামুটি ভালো পোলাও চাল ৮০ টাকা থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা ঈদের আগে বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় এবং ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায়।
পাইকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ঈদের সময় থেকে দেশে হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া মার্কেট বন্ধ ছিল। এ সময় শ্রমিক পাওয়া যায় না। সেই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে সড়কের দুরাবস্থার কারণে আমদানি খরচ বেশি পড়ছে। সেই সঙ্গে এখনো আড়তে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেনি। এসব কারণে কাঁচাপণ্যের দর কিছুটা বাড়তি। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে পণ্যের দর কমবে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়তের ব্যবসায়ীদের নেতা নুরু হাজী জানান, এখনো আড়তের সবগুলো গদি খোলেনি। এ কারণে পুরোপুরি বেচাকেনা শুরু হয়নি। বিশেষ করে এখনো ঈদের আমেজ কাটেনি। এ সময়টায় আমদানি কম বলে পণ্যের দর একটু বাড়তি।
আগামী সপ্তাহ থেকে পণ্যের দর কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

