অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : বিদেশি অডিট ফার্ম দিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সমুদয় হিসাব অডিট করানোর বিষয়ে সরকারের সম্মতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী একথা জানিয়েছেন।
ইসিএফ-এর শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আইএমএফকে জানানো হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের অনাপত্তির কথা ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়ে আইএমএফ-কে জানানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে ‘বর্ধিত ঋণ সহায়তা’র (ইসিএফ) শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেওয়া হবে না যখন বলেছিলাম তার পরের দিনই আইএমএফ- কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর পাশাপাশি বিপিসি’র সমূদয় হিসাব বিদেশী অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করানোর বিষয়ে সরকারের সম্মতির কথা আইএমএফ-কে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ইসিএফ-এর শেষ দুই কিস্তির অর্থ ২৮ কোটি ডলার ছাড়ের ক্ষেত্রে বিপিসি’র সমূদয় হিসাব কোন বিদেশী কোম্পানি দিয়ে অডিট করানোর শর্ত দিয়েছিল আইএমএফ। এ বিষয়ে ঈদের আগে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, ‘এ শর্ত মেনে আইএমএফ-এর ‘ইসিএফ’ ঋণের শেষ দুই কিস্তির অর্থ নেওয়া হবে না।’
কিন্তু ঈদের পর প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইএমএফ-এর কাছ থেকে ইসিএফ-এর শেষ দুই কিস্তির ২৮ কোটি ডলার বাংলাদেশ নিচ্ছে। আগামী অক্টোবরের মধ্যে এ অর্থ পাওয়া যাবে।’
ইসিএফ সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রসঙ্গে মুহিত তখন বলেন, ‘বিদেশি অডিট কোম্পানি দিয়ে বিপিসি’র সমুদয় হিসাব অডিট করার ক্ষেত্রে আইনগত কোন বাধা নেই। এ কারণে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।’
প্রসঙ্গত, আজ (২২ জুলাই) আইএমএফ-এর বোর্ড মিটিংয়ে ‘বর্ধিত ঋণ সহায়তা’ (ইসিএফ) চুক্তির সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সংস্থার সঙ্গে ইসিএফ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা আগামী ৩১ জুলাই।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। তিন সদস্যের এ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন গৌতম কুমার চাকমা। অপর দু’জন হলেন কে এস মং ও মাহবুবুর রহমান।
পার্বত্য পরিষদের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, তাদের তো অনেক অভিযোগ। নানা কারণে তাদের কিছু বিষয় বাস্তবায়িত হয়নি, তাদের ক্ষমতায়ন হয়নি। বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন তারা। তাদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যরা এ বিষয়ে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

