জেলার ১২টি উপজেলা এবং ১২টি পৌরসভার দুই লক্ষাধিক গরীব ও দুঃস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ১০২ দশমিক ৮০৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই চাল দেয়া হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষকে। বাকি চালগুলো চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের যোগসাজশে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের কাছে।
কম দামে কিনে নেয়া ভিজিএফের এই চাল ঈদের আগে এবং পরে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পাচার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদরের গোকুল ইউনিয়ন থেকে ভিজিএফের চাল পাচারের সময় পুলিশ ৯০ বস্তা চালসহ ৬ জনকে আটক করে।
আটককৃতরা পুলিশকে জানায়, কয়েকজন ইউপি সদস্য এবং কিছু গরীব মানুষ চালগুলো তাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বগুড়া সদরের বাংলাবাজারে অবস্থিত নামুজা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কৃষি বিভাগের একটি গোডাউন থেকে ভিজিএফের চাল পাচারের সময় স্থানীয় জনগণ ৭৬ বস্তা চাল আটক করে। এ সময় চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে দুই শতাধিক মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ঘেরাও করে। তাদের দাবি ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রাসেল মামুন দুঃস্থদের মাঝে বিতরণের চাল পরিষদ সংলগ্ন কৃষি ভবনের গোডাউনে রেখে রাতের আঁধারে বিক্রি করে দিয়েছে।
পরে পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই বেশ কিছু চাল লুটপাট করে নিয়ে যায় এলাকার লোকজন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত লোকজনকে শান্ত করে রাত ১১টার দিকে ৬৩ বস্তা চাল জব্দ করে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার মঙ্গলবার রাত ১১টায় জানান, জনগণ কিছু ভিজিএফের চাল আটক করেছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।
রাতের আঁধারে ভিজিএফের চাল পাচারের চিত্র শুধু বগুড়া সদরেই নয় জেলার প্রতিটি উপজেলা এবং পৌরসভা এলাকাতে ঘটেছে একই চিত্র। চেয়ারম্যান মেম্বারদের আস্থাভাজন কিছু মানুষকে নামমাত্র চাল দিয়ে বাকিগুলো ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে কাগজে কলমে বিতরণ দেখানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান করে দেখা গেছে মাস্টাররোলে বিতরণ দেখানো নাম ঠিকানার দুঃস্থ মানুষটি চাল পাওয়া তো দূরের কথা তিনি জানেনই না ঈদ উপলক্ষে চাল এসেছে।
এভাবেই জেলার ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌর এলাকার দুঃস্থদের নামে বরাদ্দে চাল চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পেটে চলে গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে জেলার ১২টি ইউনিয়নের ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদের ২ লাখ ১০ হাজার ২৮০ জন দুঃস্থ ও গরীব মানুষকে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আগে বিতরণের জন্য ২ হাজার ১০২ দশমিক ৮০৯ মেট্রিক টন বরাদ্দ করা হয়েছিল। একইভাবে ১২টি পৌর এলাকার ৩০ হাজার ৮০৫ জন দুঃস্থ মানুষের মাঝে মাথা পিছু ১০ কেজি করে বিতরণের জন্য ৩০৮ দশমিক ০৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, বরাদ্দকৃত চালগুলো ঈদের আগেই বিতরণ করার নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োজিত করে তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ করার নিয়ম রয়েছে।


