ঢাকাThursday , 16 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিশরে কারাগারে নির্যাতিত এক তরুণীর আর্তনাদ

Link Copied!

misorআন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিশরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ‍মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুতির পর সেনা প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জেনারেল সিসি দেশটির গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছেন এ অভিযোগ অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এসব গণতন্ত্রপন্থীদের যেসব কারাগারে আটক রাখা হয়েছে সেগুলি যেন নির্যাতনের একেকটি সেল হয়ে উঠেছে। গত জুন থেকে বিনাবিচারে আটক এক নারীর চিঠিতে বন্দীদের দুর্বিসহ জীবনের চিত্র উঠে এসেছে। গত ৭ জুলাইয়ের লেখা এই চিঠি গণমাধ্যমে আসে মঙ্গলবার।
ইসরা আল-তাবিল নামের এই তরুণীকে গত জুনে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় কিছু অপরিচিত লোক। এরপর তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এটি আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সেখানকার নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওই ভবনে ১৫ দিন অতিবাহিত করেছি, জিজ্ঞাসাবাদ মুখোমুখি হয়েছি। এ সময় আমি নির্যাতনের শব্দ শুনেছি, বন্দিরা চিৎকার করে কাঁদছিল…. সেখানে ছিলাম আমিই একমাত্র নারী। ১৫ দিন আমার চোখ বেঁধে রাখা হয়েছিল।’
তরুণ ফটোগ্রাফার তাবিলকে ১৬ দিন পর আদালতে নেয়া হয়। সেখানে শুনানি চলাকালে প্রায় ১৮ ঘণ্টা তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তিনি জানান, দাঁড়িয়ে থাকতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল তার। কারণ ২০১৪ সালের জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তার মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেন না তিনি।
এরপর তাবিলকে আল-কানাতির কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এই কারাগারের অধিকাংশ বন্দি নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ব্রাদারহুডের। আর তাদের সবার বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরনও প্রায় একই।
তাবিলের বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হওয়া এবং মনগড়া সংবাদ প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্য দুটি অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।
বন্দি জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তাবিল বলেন, ‘কারাগারের অবস্থা ভীতিকর ও ভয়ঙ্কর। এটা পুরোই ভিন্ন জগৎ ; কেউ (বন্দী)  মাদক ব্যবহারের জন্য, কেউবা পতিতাবৃত্তি, কেউ পকেটমারি ও চুরির জন্য আটক হয়েছে। ….. কারাগারে তেলাপোকা রয়েছে ভরপুর। এখানকার সবকিছুই বাজে এবং জীবন বেশ কঠিন। আমি আমার বাড়ি, পরিবার, বন্ধু ও আমার বেড়াল উডিকে মিস করছি।’
তবে যখন পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে আসেন এবং যখন তাকে মুসলিম ব্রাদারহুডের নারী বন্দিদের সঙ্গে রাখা হয়, তখন একটু দম ফেলার ফুসরত মেলে।
নিজেকে ব্রাদারহুডের কেউ নন দাবি করে তাবিল জানান,  ব্রাদাহুডের বন্দিদের সঙ্গেই থাকতে পছন্দ করেন তিনি। কারণ, তাদের কেউ ধুমপান করেন না।
চিঠির শেষে নিজের অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাবিল বলেন, ‘ টানেলের শেষ মাথায়  জীবন আমাদের আলো দেয়। এটা আমাদের বড় কষ্টগুলো ভুলিয়ে দেয়। ওহ আল্লাহ! কখন এই দুঃস্বপ্নের শেষ হবে!’