আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিসের অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানে কঠিন শর্তে ইউরোজোন নেতাদের চাপিয়ে দেয়া বেইল আউট অনুমোদন করেছে গ্রিক পার্লামেন্ট। এই প্রস্তাবের বিপক্ষে বুধবার রাতেও পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা।
দীর্ঘ বিতর্কের পর বৃহস্পতিবার সকালে নতুন ওই সংস্কার প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে পাস হয় যা গ্রিসের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে হয়। ৩শ সদস্যের পার্লামেন্টে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ২২৯ জন সাংসদ। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারোফাকিস এবং বর্তমান বিদ্যুৎমন্ত্রী পানাগিয়টিস লাফাজানিসসহ ক্ষমতাসীন সিরিজা দলের ৩৮ এমপি বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন অথবা ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার জো কনস্টান্টোপোল। তিনি এই দিনটিকে ‘ইউরোপের গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ব্রাসেলস আগেই জানিয়েছিল, গ্রিসের অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙ্গা করার বিষয়ে আবারো আলোচনায় বসার আগে ইইউ-এর শর্তগুলোকে মেনে নিতে হবে। পার্লামেন্টে ভোটের আগে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। তিনি বলেছিলেন,‘আমি নিজেও এই প্রস্তাবের পক্ষে নই। কিন্তু এটি অনুমোদন ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’
নতুন এই পরিকল্পনায় কর বৃদ্ধি করা, অবসরে যাবার বয়স বাড়ানোসহ বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন আসবে।
বুধবার রাতে গ্রিসের পার্লামেন্টে এই প্রস্তাবের ওপর যখন বাকবিতণ্ডা চলছিল তখন এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজধানী এথেন্সের সিন্তাগমা স্কয়ারে জড়ো হয়েছিল ১২ হাজারের বেশি মানুষ। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পেপার স্প্রে এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ।

