নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আগাম টিকিট বিক্রির পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগাম ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঢাকাসহ বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর ও লালনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় এ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে টিকেট বিক্রি। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন থেকে ফিরতিযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে।
২০ জুলাইয়ের ফিরতিযাত্রার টিকিট মিলবে ১৬ জুলাই, ২১ জুলাইয়ের টিকিট ১৭ জুলাই, ২২ ও ২৩ জুলাই যাত্রার টিকিট ১৯ জুলাই এবং ২৪ জুলাই যাত্রার টিকিট ২০ জুলাই বিক্রি করা হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকিট বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছে। রেলওয়ের কর্মকর্তাদের তদারকিতে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। একজন যাত্রীকে সর্বাধিক ৪টি টিকিট দেয়া হবে এবং বিক্রিত টিকেট ফেরত নেয়া হবে না।
এদিকে ফিরতি টিকিট নেয়ার জন্য কমলাপুর রেল স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশিদের ভিড় ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার জন্য অগ্রিম টিকিট নেয়ার মতো চাপ ছিল না।
এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিমধ্যে অনেকে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। তারা নিজ নিজ জেলা থেকেই ফিরতি টিকিট সংগ্রহ করবে। এজন্য ঢাকায় চাপ নেই।
তবে স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসে ঘরমুখো মানুষের চাপ নেই বললেই চলে। স্বাভাবিক ভাবেই যাত্রীরা বাড়ী ফিরছেন। বলতে গেলে সড়ক পথের চেয়ে উল্টো চিত্র লক্ষ করা গেছে রেল পথে। ভোগান্তি ছাড়াই ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।
ট্রেন চলাচলও করেছে স্বাভাবিক নিয়মেই। মাঝে মধ্যে দু’একটি ট্রেন ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে তবে এতে যাত্রীরা বিরক্ত হননি। প্রতি বছর এই সময় নানা ভাগান্তি আর পদে পদে দুর্ভোগ মোকাবেলা করে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফিরতে হয়েছে। কিন্তু এসময় গত বারের চেয়ে একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
আজ কমলাপুর রেল স্টেশনে কোনো ঈদের আমেজ নেই। দুর্ভোগ হয়রানি কোনটাই নেই। শান্তিপূর্ণভাবে ট্রেনে যাত্রীরা ঘরমুখো হচ্ছেন। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ২৯টি ট্রেন সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ৬ টা ১৫ মিনিটের ট্রেনটি ছেড়ে গেছে সকাল ৮টায়। এছাড়া ২০ থেকে ৩০ মিনিট দেরিতে ছাড়া ট্রেনের যাত্রীরা তেমন একটা বিরক্ত হননি।
এ সম্পর্কে কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী জানান, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রুটের ট্রেন ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশনে আসতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দেরি হচ্ছে। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এসব রুটের ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রী ওঠা নামার কারণে কমলাপুর আসতে দেরি হচ্ছে।’
স্টেশনে ঢুকার পর ২০ থেকে ৩০ মিনিট বিরতি দিয়ে আবার কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে ট্রেনগুলো। আজকের জয়ন্তিকা ট্রেনটি দুপুর ১২টায় ছাড়ার কথা সেখানে ট্রেনটি ছাড়া হয়েছে ১২টা ৫ মিনিটে। ৫ থেকে ১০ মিনিট দেরিতে ছাড়া কোন সিডিউল বিপর্যয় নয় বলেই জানান স্টেশন ম্যানেজার।
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৬৯টি অতিরিক্ত যাত্রীবাহী কোচ বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজন করেছে।

