ঢাকাWednesday , 15 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ কোকেন পাচারের রুট!

Link Copied!

kokenপাঞ্জেরী ডেস্ক : বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেনের চালান ধরা পড়াকে ওয়েক আপ কল হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মনে করে, দক্ষিণ এশিয়া থেকে আরো কোকেন পাচার হচ্ছে যা চিহ্নিত করা যায়নি। বাংলাদেশ হতে পারে পাচারের নতুন রুট। খবর ডয়েচে ভেলের।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা আলবার্টিন মনে করেন, ‘এটা বড় ধরনের ওয়েক আপ কল।’ আর মেক্সিকোর প্রতিনিধি আন্টোনিও মেজিটেলি জানান, ‘ল্যাটিন অ্যামেরিকার মাদক চোরাচালানকারীরা সুসংগঠিত এবং তারা মাদকের বিশেষ করে কোকেনের নতুন বাজার খুঁজছে। আর এশিয়া হল এখন এই মাদকের বড় বাজার।’
ইউএনওডিসি চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাদের মাদক দ্রব্যের চালান অনুসন্ধানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিন্তু তাদের যে সব কিট দেয়া হয়েছে, তা দিয়ে কোকেন পরীক্ষা করা যায়না। তাই এই চালানে ধরা পড়া কোকেন পরীক্ষায় জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
গত মাসের মাসের শুরুতে বলিভিয়া থেকে ১০৭ ড্রাম সূর্যমুখী ভোজ্যতেলের চালান চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এ চালানটি উরুগুয়ের মন্টিভিডিও থেকে জাহাজিকরণ করা হয় এবং তা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ৮ই জুন বাংলাদেশের শুল্ক গোয়েন্দারা এ চালানটি আটক করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পায়। ড্রামটিতে ১৮৫ কেজি তরল ছিল এবং তাতে এর এক-তৃতীয়াংশ – অর্থাৎ প্রায় ৬০ লিটার তরল কোকেন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কোকেন চোরাচালানের রুট হিসেবে এখন বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। কলম্বিয়া, বলিভিয়া, মেক্সিকো, পেরুসহদক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকেই সাধারণত উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে কোকেনের চালান যায়। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ থেকে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের মতো দেশ হয়ে তা আবার উত্তর অ্যামেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলিতে যায়।
বাংলাদেশে কোকেনের তেমন বাজার নেই। এখানে নেশাদ্রব্য হিসেবে কোকেনের ব্যবহার নেই বললেই চলে। এ দেশে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা এসব অপেক্ষাকৃত কম দামের মাদকের ব্যবহার বেশি।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্যে কোকেনের চালানটি আনা হয়নি, এর গন্তব্য অন্য কোনো দেশ।’ তিনি বলেন, ‘কোকেনের চালানটি চট্টগ্রামে আসার পর ২৫ দিন সেটি বন্দরে পড়ে ছিল এবং যার নামে এসেছিল, তিনি এটি আমদানির কথা অস্বীকার করেন। এই চালানের পেছনে একটি আন্তর্জাতিক চক্র থাকতে পারে।’
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ‘কোকেনের এ চালানটির গন্তব্য বাংলাদেশ নয়, কারণ এই তরল কোকেনকে গুঁড়া বা পাউডার কোকেনে রূপান্তর করার মতো প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে নেই৷’
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে মাদকাসক্তরা কোকেন ব্যবহার করে, এমন নজির নেই বললেই চলে। তাই ধরা পড়া কোকেন বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে এমন সম্ভাবনা খুবই কম। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডাও পশ্চিম ইউরোপের মতো উন্নত দেশে এর ব্যবহার বেশি হয়।’
তবে এটা নিশ্চিত যে বাংলাদেশকে কোকেন পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুল্ক বিভাগের গোয়েন্দারা বলেন, ‘আমাদের ধারণা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অন্য কোনো দেশে মাদক চোরাচালানের জন্যে বাংলাদেশকে মধ্যবর্তী রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
কর্মকর্তারা জানান, ‘মাদকের আসল গন্তব্য পশ্চিম ইউরোপ কিংবা উত্তর আমেরিকার কোনো দেশ হলেও উত্‍স দেশ সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্যই হয়তো চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়।’
আর বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীর দুটি প্রধান মাদক উত্‍পাদনও চোরাচালানের কেন্দ্র গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের ঠিক মাঝখানে। এর আগে বাংলাদেশে ২০১৩ সালে পাউডার কোকেনের বড় একটি চালান উদ্ধার করা হয়।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থার (ইউএনওডিসি) ২০১৪ সালের ওয়ার্ল্ড ড্রাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের হিসাবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর ৬০ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে কোকেন চাষ হয়। আর কলম্বিয়ায় ৪০ হাজার হেক্টর ও বলিভিয়ায় ২৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে কোকেন চাষ হয়। এ অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোকেন চোরাচালানের প্রচলিত রুট হলো দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পশ্চিম আফ্রিকায় হয়ে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপ। গত কয়েক বছর ধরে কোকেন চোরাচালানের রুট হিসেবে এশিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর জাতিসংঘ বলছে এশিয়ায় নতুন বাজার তৈরি করছে কোকেন পাচারকারীরা। তাই বাংলাদেশে ধরা পড়া কোকেনের গন্তব্য এশিয়ার কোনো দেশও হতে পারে।
আর এই পরিস্থিতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, ‘কোকেনের চালান আটকের ঘটনার পর মাদক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’