আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড মাদক পাচারকারী জাকুইন গুজমানকে আটক করতে ৩৮ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে সে দেশের সরকার। গত শনিবার রাতে কুখ্যাত এই অপরাধী মেক্সিকো সিটির কাছে সুরক্ষিত আল্টিপ্লানো কারগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর এই পুরস্কার ঘোষণা করা হল।
শনিবার রাতে নিজের কারাকক্ষে এক মাইল লম্বা দীর্ঘ সুরঙ্গ খুঁড়ে সেখান দিয়ে পালিয়ে যান গুজমেন। তাকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে মেক্সিকোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল অসোরিও চং অভিযোগ করে বলেছেন, কারা কর্মকর্তারা তাকে পালাতে সহায়তা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে আল্টিপ্লানো কারাগারের পরিচালকসহ তিন উর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার প্রথমবারের মত আল্টিপ্লানো কারাগার পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিগুয়েল। সেসময় তিনি গুজমেনকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তার সরকার শান্ত হবে না বলেও ঘোষণা দেন।
গুজমেনকে গ্রেপ্তারে মেক্সিকোতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে চেকপয়েন্ট স্থাপণ করা হয়েছে।পাশাপাশি তলুকা বিমানবন্দরের বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও জোর তল্লাশি তৎপরতা চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার রাতে তাকে সর্বশেষ নিজ কারাকক্ষে স্নান করতে দেখা যায়। এর কয়েক সেকেণ্ড পরেই চম্পট দেন ‘এল চাপো’ বা ‘শর্টি’ নামে পরিচিত ওই মাদক সম্রাট। রাতে তার সেলের মেঝেতে ৩২ ফুট গভীর এক গর্ত আর মই আবিষ্কারের পর গুজমানের পালানোর বিষয়টি বুঝতে পারেন কারা কর্মকর্তারা।
এটি তার দ্বিতীয় দফা জেল পলায়ন। এর আগে ২০১১ সালে মেক্সিকোর এক সুরক্ষিত জেল থেকে সিনেমাটিক কায়দায় পালিয়েছিলেন গুজমান। তখন তিনি পালিয়েছিলেন কারাগারের এক লন্ড্রি ব্যাগে চড়ে।
কুখ্যাত মাদক চোরাচালান দল ‘সিনালোয়া কার্টল’য়ের প্রধান গুজমেনকে গতবছর দ্বিতীয়বারের মত গ্রেপ্তার করেছিল মেক্সিকো পুলিশ। এ ঘটনাকে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে বড় সফলতা হিসেবে প্রচার করেছিল মেক্সিকো সরকার।

