নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিদিন বাড়তি অতিরিক্ত ৮০ হাজার যাত্রীসহ আড়াই লাখ যাত্রী বহনের টার্গেট নিয়ে বিশেষ আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস শুরু হয়েছে। এ সার্ভিস ঈদের পরের সাত দিন পর্যন্ত চলবে।
সোমবার প্রথম দিনে ২৯টি ট্রেনের মধ্যে ২৮টিই সঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। শুধু সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে আগাম টিকিট বিক্রি শেষ হওয়ায় রেলপথ মন্ত্রীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দুপুরে রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক কমলাপুর রেল স্টেশন পরির্দশন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সফল। শান্তিপূর্ণভাবে টিকিট প্রত্যাশীরা টিকিট পেয়েছেন। আশা করছি সামনেও আমরা সফল হবো।’
এর আগে মন্ত্রী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন পরিদর্শন করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বিশেষ ট্রেন সার্ভিসের মধ্যে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল: ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, চাঁদপুর স্পেশাল-১:চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, চাঁদপুর স্পেশাল-২: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, পার্বতীপুর স্পেশাল: পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বর্তীপুর, খুলনা স্পেশাল : খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটের ট্রেন রয়েছে।
এছাড়া কেবল মাত্র ঈদের দিন চলবে সোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব ও সোলাকিয়া স্পেশাল-২: ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ দুই জোড়া স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস।
এসময় রেল সচিব ফিরোজ আলম, রেলপথ মন্ত্রণালয়, রেলওয়ের অন্য কর্মকর্তারা রেলমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে ঈদে ঘরমুখি মানুষের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে কারখানায় রেকর্ডসংখ্যক যাত্রীবাহী ১৬৯টি কোচ মেরামত করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে পূর্ব ও পশ্চিম রেলে বাড়তি ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করার লক্ষ্য নিয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের সঙ্গে অতিরিক্ত কোস হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সারাদেশের মহাসড়কের নাজুক অবস্থা। সেই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ট্রেনমুখি হয়ে উঠেছে যাত্রীরা। এই আগ্রহের কারণে ঈদে অধিকসংখ্যক যাত্রী বহনের বিষয়টি বিবেচনা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
অবশ্য কমলাপুর স্টেশনে টিকিট প্রত্যাশীরা অনেকে ভোগান্তিতেও পড়ছেন। মিরপুর ১ থেকে আসা গৃহিনী মানসুরা আক্তার বলেন, ‘কমলাপুর স্টেশনে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মাত্র একটি কাউন্টার। বাকি ১৯টি পুরুষের। ন্যূনতম আরও দুটি কাউন্টার বাড়ানো হলে ভোগান্তি একটু কমতো।’
লাইনে দাঁড়ানো অন্য নারীরও বলেন, নারীদের জন্য আরও দুটি কাউন্টার বাড়ানো জরুরি। সারা রাত কমলাপুর রেল স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে সকাল ১০টার পরে কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন ফেনীর বাহারুল ইসলাম।
কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘এবারে অগ্রিম টিকিট বিক্রিকালে স্টেশনে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি বললেই চলে। শান্তিপূর্ণভাবে টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও ছিলো লক্ষ্যণীয়।’
উল্লেখ্য, এ লক্ষ্যে গত ৯ জুলাই থেকে আসন্ন ঈদের অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে রেলওয়ে। সোমবার ১৭ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রির মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে আগাম টিকিট বিক্রি।


