নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে দৈনিক আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করার টার্গেট নিয়ে আজ সোমবার শেষ হচ্ছে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি। যাত্রীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন থেকে এই টিকিট কিনতে শেষ লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে।
ঘরমুখি যাত্রীদের ইতিমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত অগ্রীম টিকিট দেয়া হয়েছে। আজ ১৭ জুলাই, অর্থাৎ ঈদের আগের দিনের (চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে) টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে কমলাপুর রেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে। তবে শেষ দিনে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কমলাপুরের ২০টি কাউন্টারই ছিল টিকিট প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড়।
অনেক টিকিট কালোবাজারে আর রেল কর্মকর্তাদের তদবিরে চলে গেছে। সে কারণে অনেকেই কাউন্টারে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট পায়নি। এমনটাই অভিযোগ করে জামালপুরগামী ট্রেনের টিকিট প্রত্যাশী স্বপন ঘোষ জানান, সকাল ৭টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ৫ ঘণ্টা পর সিরিয়াল পেলেও কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়া যায়নি।
রংপুরগামী কবি বেলাল, সৈয়দপুরগামী শাহীন করিম, খুলনাগামী শাহীন রেজারও একই অভিযোগ। তারা বলছেন, বাইরে দালালদের অতিরিক্ত টাকা দিলে তারা টিকিট পাইয়ে দেয়। তাহলে কি দাঁড়ায়, টিকিট কালোবাজারে চলে না গেলে কিভাবে বেশি টাকা দিলে টিকিট মিলে। এই হচ্ছে রেলওয়ের ব্যবস্থাপনা। শুধুই বুলি!
তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগ সত্য নয়। ঢাকার কমলাপুরে রেলওয়ে স্টেশনে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। টিকিট ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত গন্তব্যের টিকিট নিচ্ছেন। টিকিট বিক্রির সময় রেলওয়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তদারকি করছে।’
তিনি জানান, টিকিট কালোবাজারী রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় নজরদারী করছে। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের সকল আন্তঃনগর ট্রেনের অফ-ডে বাতিল করেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের সুবিধার্থে মোট ১৬৯টি অতিরিক্ত কোচ চলমান ট্রেনে সংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া কারখানায় মেরামত করে অতিরিক্ত ২৫টি ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে।

