ঢাকাSunday , 12 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৯ হাজার টিকিটের জন্য লাইনে অর্ধলাখ লোক

Link Copied!

train-ticketsনিজস্ব প্রতিবেদক : গত তিনদিনের চেয়ে শেষ দু’দিনে টিকিট সংগ্রহের যুদ্ধ আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। লাইনে দাঁড়িয়েও বেশির ভাগ যাত্রী পাচ্ছে না টিকিট। তথ্য সরবরাহে অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কিনতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ টিকিট প্রত্যাশীদের। তবে অন্যান্যবারের চেয়ে এবার টিকিট বিক্রি সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের।
রোববার দেয়া হয়েছে আগামী ১৬ জুলাইয়ের টিকিট। কমলাপুর থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের জন্য মাত্র নয় হাজার ৩৫টি টিকিট। আর এ টিকিট পেতে ঘুম হারাম করে যুদ্ধে নামেন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ।
দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, চতুর্থ দিনের টিকিটের জন্য পুরো স্টেশন জুড়ে লাইনে দাঁড়িয়েছেন প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ। টিকিট বিক্রির শেষ দু’দিন অতিরিক্ত চাপ থাকে। প্রত্যেক বছরই এমনটা দেখা যায়।
তবে টিকিট প্রত্যাশীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্যের জন্য বরাদ্দ টিকিটের সংখ্যা আগে থেকে জানানো হলেও, ওই গন্তব্যের হাল-নাগাদ তথ্য না জানানোয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। অথচ কর্তৃপক্ষ একটু আন্তরিক হলেই অনেকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহানোর হাত থেকে রেহাই পেতো।
টিকিট বিক্রির ১৮ ঘণ্টা আগে লাইনে দাঁড়িয়ে সিরিয়াল দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া থেকে আসা ফয়জুল কবির। রোববার ১৬ জুলাইয়ের মহানগর প্রভাতীর টিকিট কাটার জন্য আগের দিন কমলাপুরে এসে সিরিয়াল দিয়েছেন তিনি। সকাল সোয়া ৯টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয়, তখনো তার আগে সিরিয়ালে ছিলেন জনাবিশেক লোক।
জয়পুরহাট যাওয়ার জন্য ১৬ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকিট নিতে আসেন মো. আলমগীর হোসেন। রোববার সকাল ৯টায় কাউন্টার খোলার পর লাইনের প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। অথচ তাকে জানানো হয়, তার কাঙ্ক্ষিত টিকিটটি নেই। এমন কথা শোনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি মূলত একটি কেবিন নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লাইনের প্রথম ব্যক্তি হয়েও টিকিট না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাউন্টার থেকে জানানো হয়, আপনি স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
এ অবস্থায় আলমগীর স্টেশন ম্যানেজারের কাছে গেলে তিনি জানান, জয়পুরহাটের জন্য বরাদ্দকৃত তিন সিটের একটিমাত্র কেবিন। কিন্তু সেটি আগেই একজন বিচারপতি নিয়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘নিয়মানুসারে এখানে ভিআইপিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। উনি (আলমগীর) জয়পুরহাটের সাধারণ শ্রেণীর কোনো টিকিট চাইলে কিংবা আগের-পরের কোনো স্টেশনের টিকিট চাইলেও আমরা দিতে পারতাম।’
ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের জন্য চতুর্থ দিনের মতো লাইনে দাঁড়িয়েছেন আলমগীরের মতো হাজারো লোক। প্লাটফর্ম থেকে লাইন নেমে গেছে রাস্তায়। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সোনার হরিণটি না পাওয়ার আশঙ্কায় বড় অস্বস্তিতে এসব মানুষ।
এদিকে টিকিট সরবরাহে কাউন্টারের ধীরগতির অভিযোগ করেছেন লাইনে দাঁড়ানো অনেকে। আবার কেউ বলছেন, আনসারদের টাকা খাইয়ে অনেকে লাইনে ঢুকে পড়ছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময় পাঁচদিন। ৯, ১০ এবং ১১ জুলাই বিক্রি হয়েছে ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখের টিকিট। ১২ জুলাই বিক্রি হচ্ছে ১৬ জুলাইয়ের টিকিট। ১৩ জুলাই ১৭ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে।
পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৬ জুলাই থেকে। ওইদিন বিক্রি হবে ২০ জুলাইয়ের টিকিট, ১৭ জুলাই ২১ জুলাইয়ের, ১৮ জুলাই ২২ জুলাইয়ের, ১৯ জুলাই ২৩ জুলাইয়ের ও ২০ জুলাই বিক্রি হবে ২৪ জুলাইয়ের ফিরতি অগ্রিম টিকিট।