ঢাকাSaturday , 11 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘কালো টাকা নাই তাই বিক্রি-বাট্টা কম’

Link Copied!

Mouchakঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মানুষের হাতে কালো টাকা নেই। বেচা বিক্রিও কমে গেছে। নগরীর অভিজাত বিপনী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানেও বেচা বিক্রি কম। তার মধ্যে মরার উপর খাড়ার ঘা-এর মতো বাগড়া বাধিয়েছে বৃষ্টি।
শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পযর্ন্ত রাজধানীর ফরচুন শপিং মল, মৌচাক মার্কেট, বেইলী রোডের বিপনী বিতানগুলো ঘুরে সেখানকার বিক্রেতাদের কাছে জানতে চাইলে এভাবেই ঈদ বাজারের পরিস্থিতি ব্যক্ত করেন তারা।
সকাল ১০টায় মৌচাকের ফরচুন শপিং মলের ‘স্বর্ণা স্টাইলস’-এর ঈদের বিক্রিবাট্টা সম্মন্ধে জানতে চাইলে দোকানের স্বত্বাধিকারী মাহমুদুল হাসান সজল বলেন, ‘যেমন ভেবেছি তার সঙ্গে মিলে না। আশানুরূপ বেচা-বিক্রি হচ্ছে না। মানুষের হাতে টাকা কম। তাই কেনাকাটার বাজেটও খুব কম। গতবছরের চাইতে এবছর বিক্রি অনেক কম। তাছাড়া মার্কেটের সামনে এখন বৃষ্টির পানি জমে আছে। এজন্য লোকজন অন্য মার্কেটে চলে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এ দোকানে নানাধরনের থ্রি-পিস বিক্রি হয়। কিরনমালা, রাজকন্যা, জলকন্যা, কটি ও স্টোনের কাজের থ্রি-পিসর চাহিদা এখানে সবচেয়ে বেশি। আমার দোকানে ২ থেকে ১৫ হাজার টাকার থ্রি-পিস আছে। মানুষের বাজেট ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। কিন্তু পছন্দসই পোশাক কিনতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগেই।’
ফরচুন মার্কেটের ‘চাঁদমনি ফ্যাশনে’ বিক্রি হয় শিশুদের পোশাক। দোকানের মালিক মাসুদ বলেন, ‘এবারের ঈদে বেচা-বিক্রি অনেক কম। জুন মাস ক্লোজিং ছিল এজন্য হয়তো মানুষের হাতে ক্যাশ ক্যাপিটাল কম। তবে ৫ জুলাই থেকে বিক্রি একটু বেড়েছে।’
মাসুদ বলেন, ‘এ মার্কেটে হাই লেভেল, মিডিয়াম লেভেল সব ধরনের কাস্টমারই আসে। তবে বেশি বিক্রি হয় কিরনমালা, মুদি কটি, মুটো পাতলো, ডিসকো মুদি, ওগি ও এ্যাংরিবাট।’
জানতে চাইলে নিসু জাহান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদের কেনা-কাটা প্রায় শেষ করে এনেছি। তবে মার্কেটগুলোতে এবছর ঈদের জামা-কাপড়ের দাম অনেক বেশি। বিশেষ করে, শাড়ী, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া এসবের দামই বেশি নিচ্ছে বিক্রেতারা।’
ফরচুন শপিং মলে বিভিন্ন দোকানে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শাড়ী, থান কাপড়, রেডিমেড গার্মেন্টস, জুতা, জুয়েলারি ও ইমেটেশন সামগ্রী, চামড়া সামগ্রী, কারুশিল্প, ক্রোকারিজ, খেলনা ও প্রসাধন সামগ্রী প্রভৃতি।
ঈদ উপলক্ষে ফরচুন শপিং মলে র‌্যাফেল ড্র এর আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি ৫০০ টাকার কেনাকাটায় ১ টি কুপন ফ্রি।
মৌচাক মার্কেটের ‘নিউ নবরূপা তাঁতঘরের’ মালিক মো. করিম বলেন, ‘বেচা-কেনা গতবারের চেয়ে অর্ধেক। এবার ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কাস্টমার খুব কম। প্রয়োজনের বেশি কেউ কেনে না। আগে একটার জায়গায় ২-৩টা এমনকি ১০টাও কিনতো এখন শুধু নিজেদের জন্য কেনে। কোনো গিফট দেয় না। তাই গিফট আইটেম বিক্রি বন্ধ।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। ঈদের পর এইচএসসি ভর্তি হবে অনেকেই। এজন্য বাড়তি ২৫-৩০ হাজার টাকার দরকার। তাই কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছে ক্রেতারা।’
নিউ নবরুপা তাঁতঘরে পাওয়া যাচ্ছে ৫ শ থেকে ৩ হাজার টাকা দামের বিভিন্ন শাড়ী। তারমধ্যে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ী দাম ১০০০ টাকা, সুতি ভয়েল শাড়ী ৯৫০টাকা, বি-প্লাস ১০৫০ টাকা, তুলসী তাতেঁর শাড়ী ৭৫০ টাকা, কারিশমা প্রিন্টের শাড়ী ৭৫০ টাকা।
মৌচাক মার্কেটের বহুল পরিচিত রাবেয়া রূপা ঘর। এখানে রূপা ও সোনার তৈরি বিভিন্ন জুয়েলারি সামগ্রী পাওয়া যায়। ঈদের বেচা–বিক্রি নিয়ে রূপা ঘরের কর্ণধার সঞ্জয় এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভের সঙ্গেই বলেন, ‘বুঝতে পারছি না কেন বেচা-বিক্রি এত কম হচ্ছে। আগে যেখানে ৫০ হাজার টাকার মাল বিক্রি করতাম এখন সেখানে মাত্র ৫ হাজার টাকার মালও বিক্রি হয় না। মনে হয় মানুষের হাতে কালো টাকা নাই তাই বিক্রি কম হচ্ছে।’
সঞ্জয় জানান, প্রতিবছর রোজার ৩ মাস আগে থেকে বিভিন্ন গয়নার অর্ডার পেতাম। এবার পাইনি। ৩ মাস রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও বেচা-বিক্রি ভালো ছিল। আন্দোলন শেষ হলো বেচা বিক্রি কমে গেল। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেকে ঈদের পরে দোকান ছেড়ে দেবে।’
রাজধানীর নাটক পাড়া নামে খ্যাত বেইলীরোডে আছে টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির, টাঙ্গাইল তাঁতঘর, স্মৃতি শাড়ী কুটির, এম ক্রাফট, তাঁত কুটির, উৎসব শাড়ী কমপ্লেক্স, বুনন, রমণী, বধুয়া, ঝলক, নাভিলা, প্রিয়দর্শিনী, সজনী প্রভৃতি শাড়ী, থ্রি-পিস ও শিশু-কিশোরদের কাপড়ের দোকান।
বেইলী রোডের এশিয়ান কাসেম প্যারাডাইস মার্কেটে অবস্থিত ‘ঝলক’ শাড়ী দোকানের কর্ণধার মাসুদ জামান বলেন, ‘বেচা-বিক্রি নাই। এবারের রোজায় গতবারের অর্ধেকও বিক্রি হয়িনি।
তিনি আরো জানান, ‘ঝলক’-এ ৮০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের শাড়ী আছে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা দামের শাড়ী।