ঢাকাSaturday , 11 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস: চরের নারীরা কুড়িতেই বুড়ি

Link Copied!

nariপটুয়াখালী প্রতিনিধি : ভৌগলিক অবস্থান ও প্রয়োজনীয় জনবল এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অবকাঠামো গত অসুবিধার কারণে কাঙ্ক্ষিত মানের পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কয়েক লাখ সক্ষম দম্পতি। এ কারণে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তারা একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
পটুয়াখালী রাঙ্গাবালী উপজেলার চড় আণ্ডায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার মেয়েদের অধিকাংশই ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই বিয়ে দেয়া হয়ে থাকে। এ কারণে প্রতি ঘরেই ৪ থেকে ৫টি সন্তান রয়েছে। এমনই একজন সনিয়া বেগম। ১৩ বছরের সনিয়া আক্তার যখন ৮ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী ছিল। সে সময়ে জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী গ্রামের হালেম গাজীর ছেলে তারেকের সঙ্গে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সনিয়ার কোলজুড়ে আসে একটি কন্যা সন্তান। সে সময়ে সনিয়া বাচ্চা প্রসব করতে গিয়ে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এর পরবর্তী বছরে আবারো গর্ভবতী হন সনিয়া। ১৬ বছর বয়সে সনিয়া দুই সন্তানের মা। তার দুটি সন্তানই কন্যা শিশু। সনিয়ার বয়স যখন ১৮ ছুঁই ছুঁই সে সময়ে তার একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। আর বর্তমানে সনিয়ার বয়স কুড়ি। তাতে কী, সনিয়ার চেহারায় এখন ৪০ ঊর্ধ্ব নারী ছাপ। তবে সনিয়া যেমন কুড়িতে বুড়ি হয়েছে, তেমনি অল্প বয়সে ও বারবার সন্তান নেয়ায় মা ও সন্তান উভয়ের স্বাস্থ্যেরই অবনতি হয়েছে।
এভাবেই উপকূলীয় বিচ্ছিন্ন চরের নারীরা অল্প বয়সে বারবার ও অধিক সন্তান প্রসব করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরছেন। এ কারণে যেমন মা ও শিশু মৃত্যুর পরিমাণ বাড়ছে তেমনি বহু বিবাহ প্রথাও বাড়ছে এসব চরগুলোতে।
এ বিষয়ে কথা হয় সনিয়ার স্বামী তারেকের সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের যখন বিয়ে হয় তাদের পরিবার পরিকল্পনা ও জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। এ কারণে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোলজুড়ে একের পরে এক সন্তান এসেছে।
জনবল সংকট আর যাতায়াত সমস্যার কারণে পটুয়াখালী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর অনেক সময়েই এসব চরে কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা দিতে পারেন না। এই প্রতিষ্ঠানে সরকার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত পদের বিপরীতে অধিকাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকায় ব্যাহত হচ্ছে এখানকার সেবা কার্যক্রম।
উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, মেডিকেল অফিসার পদে মোট ২৫ জনের পদ থাকলেও বর্মমানে কর্মরত আছেন ৯ জন। বাকি ১৬টি পদ খালি রয়েছে। সহকারী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার, সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা, সরবরাহ কর্মকর্তা পদে ১৪টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৬ জন। বাকি ৮টি পদ খালি রয়েছে। ২য় শ্রেণীর পদমর্যাদার অফিস সুপার, স্যাকমো, এফডব্লিউভি, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা সহকারী, সহকারী নাসিং অ্যাটেনডেন্ট, ফিমেল নাসিং অ্যাটেনডেন্টসহ বিভিন্ন পদে ৫৯৮টি অনুমোদিত পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৫২৭ জন। এসব পদের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে ৭১টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া ৩য় শ্রেণীর পদমর্যাদার দাই নার্স, মিডওয়াইফ, এমএলএসএস, নিরাপত্তা প্রহরী, আয়া,ঝাড়ুদারসহ বিভিন্ন ২৫টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৭জন। বাকি ৮টি পদ খালি রয়েছে।
তবে পটুয়াখালী জেলায় সার্বিকভাবে পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণের সংখ্যা ভালো। জেলার মোট সক্ষম দম্পতির সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪ শত ৮৬ জন। গত এক বছরে জেলার বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, বহুমুখি সংস্থাসমূহে মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ২ লাখ ৭২ হাজার ৮শ ৭৬ জন বিভিন্ন ধরনের সেবা গ্রহণ করেছে। এ হিসেবে প্রায় ৮০.৬২ শতাংশ দম্পতি পরিবার পরিকল্পার সেবা গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনার এসব সেবা গ্রহণ করার কারণে দেশের জনসংখ্যার উৎপাদনের পরিমাণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর এক্ষেত্রে পটুয়াখালী জেলার অবস্থা আরো ভালো।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ডা. জসিম উদ্দিন জানান, পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এরপরেও অধিকাংশ মানুষের কাছেই পরিবার পরিকল্পনা সেবা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলায় শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগ দিলে ও জেলা কার্যালয়সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে এই সেবার পরিধি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে।
তবে অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করলে এবং এসব চরের মানুষকে পরিবার পরিবকল্পনা বিষয়ে আরো সচেতন করতে পারলে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।