ঢাকাSaturday , 11 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশরাফের পর কে বা কারা?

Link Copied!

ashrafনিজস্ব প্রতিবেদক : তবে কী মন্ত্রিপরিষদের বহুলালোচিত রদবদল শুরু হয়ে গেলো? অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের একটি বক্তব্যকে পরিবর্তনের সেই ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থমন্ত্রী এমএ মুহিত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেটের কাজীরবাজার ব্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে, বিষয়টি আগে থেকেই আমরা ৬-৭ জন জানতাম।’
বৃহস্পতিবার দলের সাধারণ সম্পাদক ও সবচেয়ে আস্থাবান লোক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে এ নিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সৈয়দ আশরাফকে স্থানীয় সরকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়ায় বেশ অবাক বনে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে অর্থমন্ত্রীর কথা থেকে মনে হয় বিষয়টি পরিকল্পিত।
বৃহস্পতিবার এ নিয়ে কেউ কথা না বললেও শুক্রবার মুখ খোলেন সরকারের গুরুত্বপুর্ণ দুই মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দলের কাজে আরো বেশি করে সময় দেয়ার জন্যই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দপ্তরবিহীন করা হয়েছে। হয়তো তিনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেছেন দলের কাজে তাকে আরো বেশি সময় দেয়া প্রয়োজন। সেটা করতেই তিনি তাকে (সৈয়দ আশরাফ) সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রত্যেক দেশেই সরকার প্রধান থাকেন, আমাদের দেশেও আছেন। তিনি প্রয়োজন মনে করলে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত করেন। আবার প্রয়োজন মনে না করলে সরিয়েও নেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’
আর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে, বিষয়টি আগে থেকেই আমরা ৬-৭ জন জানতাম। কিন্তু আর কাউকে অব্যাহতি দেয়া হবে কি না তা বলা মুশকিল।’
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একজন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হিসেবেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে যখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয় তখনই একটি প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছিল যে, তিনি মন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু তার কোনো দপ্তর থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী এতোদিন পর সেই প্রস্তাব কার্যকর করলেন।’
আর কাউকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়েছেন। দেখা যাক কী হয়। আই হ্যাভ নো আইডিয়া। একটু রিকাস্টিং হতে পারে।’
সুতরাং অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, সামনে আরো চমক অপেক্ষা করছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কাদের নিয়ে সেই চমক?
এদিকে গত তিন মাস ধরে দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে কথা হচ্ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছে।
সৈয়দ আশরাফের অব্যহতি নিয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছে মন্ত্রিত্ব বড় কোনো ব্যাপার নয়। একজন আপাদমস্তক রাজনীতিক। তার কাছে মন্ত্রিত্বের পোর্টফোলিও বড় ব্যাপার নয়। তিনি যেখানেই থাকেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের সন্তান হিসেবে নিজস্ব মেধা ও মননে একজন সৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন।’
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় কে কি পোর্টফোলিও পাবেন, তা একেবারেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখতিয়ার। দেশ, জাতি, দল ও গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশরাফকে সরিয়েছেন। এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপার।’
যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘মন্ত্রিসভার রদবদল এটা আসলে স্বাভাবিক নিয়ম বা প্রক্রিয়া। সংসদীয় গণতন্ত্রে সিস্টেমটাই এরকম। বাজেটের পর সরকার সাধারণত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের রদবদল করে থাকেন। এটা নিয়ে বেশি চিন্তার কারণ নেই। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’
যারা বাদ যেতে পারেন
বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে যারা ঝরে পড়তে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ত্রাণমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় মায়াকে বেকসুর খালাস দিয়ে ঘোষিত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। রায়ে মায়ার আপিল হাইকোর্টে পুনরায় শুনানি করে নিষ্পত্তির আদেশ দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘এ অবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী মায়ার সংসদ সদস্য পদ থাকা উচিৎ নয়।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকও অভিমত দিয়েছেন, ‘মন্ত্রিসভায় থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন মায়া। তার পদত্যাগ করা উচিৎ।’
মায়া কোন ক্ষমতাবলে ত্রাণমন্ত্রী পদে বহাল আছেন তা জানতে চেয়ে গত মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ একটি রিটও করেছেন।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ১৩ জুন রাজধানীর সূত্রাপুর থানায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৬ কোটির টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। পরে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত মায়াকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
আর কামরুলের বিরুদ্ধে ব্রাজিল থেকে পোকায় খাওয়া নিম্নমানের গম কেনার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তির জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাজিল থেকে আমদানি করা দুই লাখ টন গমের কার্যাদেশ পায় ইমপেক্স ইন্টারন্যাশনাল এবং ওলাম ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এই কোম্পানি দুটির সঙ্গে সরকারের উপরের মহলের ঘনিষ্ঠতা আছে বলে জানা গেছে।
ব্রাজিল থেকে আমদানিকৃত গম দিয়ে পুলিশ বাহিনীর রেশন দিতে যাওয়ার ফলে ঘটে বিপত্তি। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি খাদ্য সচিবকে তলব করলে শুরু হয় তোলপাড়। এরপরই ব্রাজির থেকে গম আমদানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে হজ ও তাবলিগ জামায়াত নিয়ে কটূক্তি করার দায়ে মন্ত্রিত্ব হারান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। কিন্তু তার মন্ত্রণালয়টি এখনো কাউকে দেয়া হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে নিয়েও বিস্তর সমালোচনা হচ্ছে। তবে এ যাত্রায় তিনি পার পেয়ে যাবেন বলে ধারণা করছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।
যারা ঢুকতে পারেন
মন্ত্রিসভার আসন্ন রদলে যারা নতুন করে যুক্ত হতে পারেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমও এ তালিকায় যুক্ত হতে পারেন। ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, ড. আব্দুর রাজ্জাক আগের সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠনের পর তাদের মন্ত্রিসভার বাইরে রাখা হয়। লতিফ সিদ্দিকী বাদ যাওয়ায় আব্দুর রাজ্জাকের সম্ভাবনা উজ্জল হয়ে উঠেছে। গত মেয়র নির্বাচনে তার ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী খুশি বলেও জানা গেছে।
তবে কারা মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন, কারা বাদ পড়বেন- এটা প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানেন। এ ব্যাপারে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এটা একমাত্র তারই এখতিয়ার।