ঢাকাFriday , 10 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ, দু’দিন পরই দপ্তর হারালেন আশরাফ

Link Copied!

Hasina-ashrafনিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ হাজার ৭৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প ওঠে। কিন্তু সেখানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আশরাফ) যেহেতু মিটিং-টিটিংয়ে আসেন না, সেহেতু ওনাকে সরিয়ে দিলে ভালো হয়।’ এরপর তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ জন্য পদক্ষেপ নিতে বলেন। শুধু তাই নয় আশরাফের স্থলে ইঞ্জিনিয়ার খন্দোকার মোশাররফ হোসেনের নামও চলে আসে গণমাধ্যমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওইদিন কিছুই হয়নি।
তবে মাত্র দু’দিন পরই বৃহস্পতিবার সৈয়দ আশরাফকে অব্যাহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হলো।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানানো হয়- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছে। আর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ এর ৩ (৪)-এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে মন্ত্রিগণের মধ্যে দায়িত্ব নিম্নরুপভাবে পুনর্বণ্টন করেছেন-
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বর্তমান দপ্তর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, পুনর্বণ্টনকৃত দপ্তর দপ্তরবিহীন মন্ত্রী।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বর্তমান দপ্তর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। পুনর্বণ্টনকৃত দপ্তর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমাবায় মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (অতিরিক্ত দায়িত্ব)।
উল্লেখ্য, খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের শ্বশুর।
অবশ্য গত মঙ্গলবারই সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চলেও যায় অব্যাহতি সংক্রান্ত কাগজপত্র। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে যে কর্মকর্তা অব্যাহতির সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যান তার কাছ থেকে তা রেখে তাকে ওইদিন ফিরিয়ে দেয়া হয়।
পরে ওইদিন বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞার কাছে গণমাধ্যম কর্মীরা সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু হয়নি, হলে আপনারা জানবেন।’
‘শোনা যাচ্ছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে একটি প্রক্রিয়া চলছে’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কিসের প্রক্রিয়া। আমি তো কিছু জানি না। আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
ওইদিন কিশোরগঞ্জ জেলায় নিজ বাসভবনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রীর পদ থেকে তার অব্যাহতির খবর সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গুজবে কান না দেয়াই ভালো।’ তাকে অব্যাহতির বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এলে সাবেক রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ তখন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ওয়ান ইলেভেনের সময় আবদুল জলিলের অনুপস্থিতিতে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। যে দায়িত্ব এখনো তিনি পালন করে যাচ্ছেন।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে সৈয়দ আশরাফ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ পাঁচ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। তারপর ‘বিতর্কিত’ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তিনি আবারো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
ওই সময় দায়িত্ব গ্রহণ করে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাকে তিনটি মন্ত্রণালয়ের অফার দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে অন্য দুটি আরো সেক্সি (তথ্য ও পররাষ্ট্র)। ওখানে অনেক প্রচারণা পাওয়া যায়। কিন্তু আমি তা নেইনি।’
তবে সৈয়দ আশরাফ মন্ত্রণালয়ে খুব কমই আসতেন। এ নিয়ে অসন্তোষও দেখা গেছে। অনেকে বলেছেন- দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হয়; আবার কেউ বলেছেন না- ভালোইতো চলছে। তবে তার ক্লিন ইমেজে সচিবালয় তথা সব জায়গায় প্রশংশিত। আর তিনি দলীয় সাধারণ সম্পদাক হয়ে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে কম কথা বলেন।
এদিকে বিগত পাঁচ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটে। ওই নির্বাচন না দেয়ার জন্য বলেছিলেন সৈয়দ আশরাফ। কিন্তু দলের অন্য অংশ এই নির্বাচন দেয়ার পক্ষে ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন স্থনীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম সহিদ খান। তখন থেকেই দলের একটা অংশ আশরাফের বিপক্ষে চলে যায়।
আবার ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে নগ্নভাবে ভোট কেটে দলীয় প্রার্থীকে জয়লাভ করোনোর বিপক্ষে ছিলেন সৈয়দ আশরাফ। এখানেও তিনি একটি অংশের অপছন্দের তালিকায় পড়ে যান।