ঢাকাFriday , 10 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদের কেনাকাটায় বৃষ্টির বাগড়া

Link Copied!

rainঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ঈদের আগে দ্বিতীয় শেষ শুক্রবার। দোকানিরা প্রস্তুত নিত্য নতুন পোশাকের পসরা নিয়ে। ক্রেতারাও ঘরে বসে তৈরি বিপণীবিতানে যাওয়ার জন্য। হাসিখুশি-উৎসবমুখর মানবজীবনে বাগড়া বসিয়ে দিল বেরসিক প্রকৃতি! বলা নেই কওয়া নেই ঝুপঝাপ নেমে পড়ছে বারিধারা। মন বলছে রবীন্দ্রনাথের মতো- ‘নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে। ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে.. ‘। কিন্তু ঈদের দিনগুলোতে নতুন পোশাক পরার ইচ্ছা আর পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে শুক্রবার সকালেই রাজধানীবাসী ছুটছেন বিপণীবিতানগুলোতে।
রাজধানীর নিউমার্কেটের সামনে কথা হচ্ছিল বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা জাকারিয়ার সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘সামনের শুক্রবার বাড়ি যাবো। তাই এই দিনটিকেই বেছে নিয়েছিলাম ঈদের কেনাকাটা সারতে। স্ত্রী ও বাচ্চারা আগেই নিজেদের কেনাকাটা সেরেছে। এখন গ্রামের বাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করবো। কিন্তু বৃষ্টি যা শুরু করেছে, কিভাবে যে কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না।’
একটু এগিয়ে গাউছিয়ার সামনে দেখা হলো এক গৃহিনীর। রিকশা থেকে নেমেই ময়লা পানিতে পা ভিজলো তার। চরম বিরক্তির মধ্যেই তিনি জানালেন এসেছেন লালমাটিয়া থেকে, নাম আসমা খাতুন। বললেন, ‘বৃষ্টি যে কি শুরু করেছে, বুঝেই উঠতে পারছি না। সকালে এক পশলা হওয়ার পর ভেবেছিলাম দিনটি পার করা যাবে। কিন্তু এখন আবার বৃষ্টি, সেই সঙ্গে মার্কেটের সামনে ময়লা পানি। এভাবে কি কেনাকাটা করা যায়? কিন্তু কি করবো বলেন, কেনাকাটা তো করতেই হবে। বাড়ির সবার জন্য নতুন পোশাক তো কিনতেই হবে।’
সবচেয়ে বড় উৎসবকে ঘিরে বিক্রেতাদের প্রস্তুতি কিন্তু ব্যাপক। চারশ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীর বিপণীবিতানগুলোতে ঈদ সজ্জার আড়ম্বর। কোথাও সুদৃশ্য তোরণ, কোনোটিতে রঙিন রেশমি কাপড়ের অলঙ্করণ। সেই সঙ্গে পথের মোড়ে, দোকানপাটের সামনে ঝুলছে নানা রঙ আর মাপের ব্যানার। তাতে ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার নানা চটকদার বাক্য- ‘ঈদ ধামাকা। এটা কিনতে ওটা ফ্রি। সঙ্গে ইন্সট্যান্ট ক্যাশব্যাক’, ক্রাচ কার্ড, বিদেশ ভ্রমণ, লটারিসহ আরো কত্ত কী! সবমিলিয়ে ব্রহ্ম চাঁদি ঘুরে যাওয়ার মতো সব প্রস্তাব নিয়েই কিন্তু দোকানিরা প্রস্তুত! কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে বেশকিছু বিপণীবিতানে মেঘলা আকাশের মতোই মুখ করে আছেন বিক্রেতারা। বৃষ্টি মাথায় করে যারা কেনাকাটা করতে বেরিয়েছেন, তারা বেশ সমাদর পাচ্ছেন দোকানে এলেই। অবশ্য আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এ সময় এই বাড়তি খাতির পাওয়ার কথা ছিল না।
রাজধানীর নিউমার্কেট, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, চাঁদনী চক ও গাউছিয়াসহ আশপাশের সব কয়টি মার্কেটের সামনেই এখন পানিতে সয়লাব। তবে দোকানিরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে সকালেই দোকান খুলে বসেন। ক্রেতারাও একেবারে নিরাশ করেনি বিক্রেতাদের। বৃষ্টির কারণে কাদা আর পানিতে মাখামাখি, যেন ঠিকমতো চলাফেরা করাই দায়। দিনভর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে কোনো কোনো দোকানি তাদের নতুন আসা পোশাকগুলোর ডিসপ্লে সাজাতে পারেননি ভালোভাবে।
এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কের মতো বিলাসবহুল বিপণীবিতানগুলোতে কিন্তু ভিড় বাড়ছে। আর মালিবাগ, মৌচাক এলাকার মার্কেটগুলোতেও অসহনীয় জলজট আর যানজটের মধ্যেই কেনাকাটা করেছেন ক্রেতারা।
তবে বৃষ্টিতে সবচেয়ে কষ্টে আছেন ফুটপাতের দোকানিরা। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, নিউ বঙ্গবাজার, গোলাপ শাহ বাজার, নিউমার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর আড়াইটা) বৃষ্টির কারণে বিক্রি তো দূরের কথা, ৯০ শতাংশ দোকান ভালো করে খুলতেই পারেননি অনেকে। যারা খুলেছিলেন, তারাও অবিরাম বৃষ্টির তোড়ে টিকতে না পেরে বারবারই বন্ধ করে দিচ্ছিলেন দোকান। কিন্তু যখনই বৃষ্টি থেমে আসছে তখনই ফুটপাথে হকারদের হাঁকডাক- ‘এক দাম দুইশ, যা নেবেন দুইশ’ বা ‘এক দাম দেড়শ, বাইছা লন দেড়শ’। ফুটপাথে পানি জমে যাওয়ায় গতবারের চেয়ে এবার বেচাকেনা অনেক কম বলে জানিয়ে দিয়েছেন দোকানিরা।