আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিসরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষ দূত বার্নার্দিনো লিয়ন। দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি পর্যবেক্ষণ সংস্থার সাবেক প্রধান মুহাম্মাদ আল বারাদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মিসরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তৃতাকালে তিনি এ তথ্য জানান।
এল বারাদি বলেন, ‘২০১৩ সালে আমি একটি অবস্থানের অংশ ছিলাম। তবে মূলত আমাদের একটি অন্তর্ভূক্তিমূলক পন্থার প্রয়োজন ছিল। আমাদের একটি অবস্থান প্রয়োজন ছিল যেখানে ইসলামিক ও অনৈসলামিকপন্থীরা একত্রিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামপন্থীরা কী তা আসলে আমি বর্ণনা করতে পারবো না, অনেক বেশি ছায়া ও ধূসরতা। তবে এরপরে যা ঘটেছে আমি তার জন্য স্বাক্ষর করিনি। আমি স্বাক্ষর করেছিলাম আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য, আমি স্বাক্ষর করেছিলাম মুরসির সম্মানজনক বিদায়ের জন্য, আমি স্বাক্ষর করেছিলাম এমন এক পরিস্থিতির জন্য যেখানে ইসলামপন্থী ব্রাদারহুডও অর্ন্তভূক্ত থাকবে। আমি এমন একটি পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেছিলাম যেটির ওপর কাজ করছিলেন আমার বন্ধু বার্নার্দিনো লিয়ন এবং যা তিনি এখন আবার লিবিয়ায় কার্যকর করার চেষ্টা করছেন। পরে এর সবই ছুড়ে ফেলা হলো জানালা দিয়ে। ক্ষমতা দখলের জন্য সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লো । যখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লো তখন সেখানে আমার মতো লোকের কোন জায়গা রইলো না।’
স্পেনের কূটনীতিক বার্নার্দিনো লিয়ন ২০১৪ সালের আগস্টে লিবিয়ায় জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ও জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। তার পূর্বসূরি ছিলেন তারেক মিত্রি।

