ঢাকাWednesday , 8 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভোমরা বন্দরে রাজস্ব ফাঁকির অভিনব কায়দা

Link Copied!

Bhomraসাতক্ষীরা প্রতিনিধি : রাজস্ব আয়ের অপর সম্ভাবনময় স্থলবন্দর ভোমরা। প্রতিদিন এ বন্দর থেকে সরকার প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। দুর্নীতি বন্ধ হলে এ বন্দর থেকে সরকার দৈনিক দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা মন্তব্য করেন। রাজস্ব আদায়ের অন্তরালে এখানে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা ফাঁকি দেয়া হয় বলে সূত্রটি দাবি করে।
ভোমরা বন্দরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলে দুর্নীতি। রাজস্ব অফিসের প্রত্যেক ঘরে ঘরে চলে দুর্নীতি। এমন কোনো ঘর নেই যেখানে দুর্নীতি হয় না।
অভিনব কৌশলে ভোমরা বন্দরের কাস্টমস সুপার লুৎফুল কবীর ও ইমতিয়াজ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সরকারকে ফাঁকি দেয়া হচ্ছে দৈনিক কোটি টাকার রাজস্ব।
কীভাবে ফাঁকি দেয়? এমন প্রশ্নের জবাবে স্থলবন্দর সূত্র জানায়, ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর ভোমরা শুল্ক স্টেশনের সামনে স্কেলে পরিমাপ করা হয়। পরিমাপের সময় ২৪ টন পণ্য ঢুকলে লেখা হয় ১৮-২০ টন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ পর্যন্ত লেখার নজির আছে বলে সূত্রটি দাবি করে। প্রতি ট্রাকে ৪ থেকে ১০ টন পর্যন্ত ফাঁকি দেয়ার নজির রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়,পণ্য পরিমাপের পর তার ফলাফল কম্পিউটার প্রিন্টারে অটোমেটিক প্রিন্ট হয়। কিন্তু যিনি কম্পিউটারটি পরিচালনা করেন কলকাঠি তার হাতেই। চুক্তিমতো ওজনে ফাঁকি এখান থেকে শুরু হয়। তারপর ট্রাকটি চলে যায় সরকারি পাকিং ইয়ার্ডে। পাকিং ইয়ার্ডে প্রবেশের আগে নির্দিষ্ট সিঅ্যাণ্ডএফ এজেন্টের লোকজন ট্রাক থেকে সবাই নেমে যায়। তারপর পার্কিং ইয়ার্ডে পণ্য খালাস করে যখন খালি ট্রাকটি বাইরে বেরিয়ে আসে তখন ২০/৪০ জন লোক ট্রাকের উপরে এবং সাইডে ঝুলতে থাকে।
এভাবে ঝুলে থাকার কারণ জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, ট্রাকটি যখন পার্কিং ইয়ার্ডে প্রবেশ করেছিল তখন পণ্যসহ ট্রাকের ওজন পরিমাপ করা হয়েছিল এবং ফলাফল লিখে রাখা হয়েছিল। পণ্যবাহী খালি ট্রাকটির ওজন বাদ দিলে পণ্যের ওজন পাওয়া যায়। কিন্তু শুল্ক স্টেশনের সামনে যখন ট্রাকটি স্কেল করা হয়েছিল তখন যে পরিমাণ ওজন কম দেখানো হয়েছিল ঠিক পার্কিং ইয়ার্ড থেকে বাইরে যাবার সময় খালি ট্রাকে সেই পরিমাণ মানুষ বোঝাই করা হয়। তা না হলে দু’জায়গায় দু’রকম ফলাফল দেখা যায়। এভাবেই ওজনে কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয় ভোমরা বন্দরে।
শুল্ক স্টেশনের সামনে ১০টি ট্রাক স্কেল করা হলেও বাকিগুলো করা হয় না। আন্দাজের ওপর ওজন ধরা হয়। স্কেলের উপর ১০টি ট্রাক তোলা হলে স্কেলের পাশের রাস্তা দিয়ে পরিমাপ ছাড়াই চলে যায় আরো ১০টি ট্রাক। ২৪ টন পণ্য আসলে খাতা কলমে দেখানো হয় ১৮/২০ টন।
এ বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। গত বছর ভোমরা শুল্ক স্টেশনটি পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তরিত হয়।
পাথর, ফ্লাই অ্যাশ, মাছ, ফল, জিরা, চালসহ বিভিন্ন পণ্য আসছে ১০ থেকে ১২ চাকার ট্রাকে। এসব ট্রাকে ২৪/২৫ টন পর্যন্ত পণ্য আনা হয়। কিছু পণ্যের শুল্ক বেশি আবার কিছু পণ্যের শুল্ক কম। এছাড়া শুল্কমুক্ত কিছু পণ্য আমদানি করা হয়। কিন্তু কম শুল্কের পণ্য দেখিয়ে আমদানি করা হয় বেশি শুল্কের পণ্য। ইতোপূর্বে বহুবার বিষয়টি ধরাধরি হয়েছে। সিঅ্যাণ্ড এফ এজেন্টের কতিপয় কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তার যোগসাজশে এভাবে দৈনিক প্রায় কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আছে।
ভোমরা বন্দরের নবাগত রাজস্ব কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন ও লুৎফুল কবীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তিনি সবাইকে ম্যানেজ করে নিজে নাকি দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাড়ি পাঠান।
বিষয়টি জানার জন্য রাজস্ব কর্মকর্তা লুৎফুল কবীর ও সুপার ইমতিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ১২ কোটি ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৬২ টাকা, আগস্ট মাসে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ ৩৮ হাজার ১৩৫ টাকা, সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪৯ টাকার ৭৬০ টাকা, অক্টোবর মাসে ২৪ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ টাকা, নভেম্বর মাসে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ ২১ হাজার ৯৯৭ টাকা, ডিসেম্বর মাসে ৩০ কোটি ৪০ লাখ ৩ হাজার ২০ টাকা, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৪৯ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৬১৬ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৮ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৩ টাকা, মার্চ মাসে ৭০ কোটি ৬৬ লাখ ৯৮ হাজার ২০ টাকা, এপ্রিল মাসে ৩৯ কোটি ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৩ টাকা, মে মাসে ৩০ কোটি ৪৩ লাখ ১৩ হাজার ৯১ টাকা এবং জুন মাসে ১৯ কোটি ২৭ লাখ ৩৭ হাজার ২৮৯ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।
তারা আরও বলেন, গত অর্থ বছরে ৪৩২ কোটি ৮১ লাখ ২ হাজার ৮৮৩ টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ সময় রাজস্ব আদায়ের টার্গেট কত ছিল জানতে চাইলে লুৎফুল কবীর বলেন, ‘৪৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ছিল লক্ষ্যমাত্রা। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে সারাদেশে নৈরাজ্য নাশকতা ও অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ভোমরা স্থরবন্দর ছিল সচল। রাজস্ব আদায়ে এ বন্দর লক্ষ্যমাত্র অতিক্রম করেছিল। কিন্তু ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে কেন এ বন্দর রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি এমন প্রশ্নের কোনো জাবাব দিতে সম্মত হননি ওই দুই কর্মকর্তা।