আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সেনা সংখ্যা কমানোর ঘোষনা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী দুই বছরের মধ্যে (২০১৭ সাল) মার্কিন সেনা সংখ্যা ৪০ হাজার কমিয়ে আনা হবে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
ব্যয় সংকোচ পরিকল্পনার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী থেকে আরও ১৭ হাজার বেসামরিক কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। ওই ঘোষণায় ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ মার্কিন সেনা সংখ্যা কমে সাড়ে চার লাখে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। ২০১২ সালে ইরাক এবং আফগানিস্তানে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময় দেশটির সেনা সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার।
এই বিপুল পরিমাণ সেনা কমিয়ে আনার প্রস্তাবটি দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে রয়েছে। গতবছরের গোড়ার দিকে পেন্টাগন প্রধান চাক দুই ব্যয়বহুল বিদেশী যুদ্ধের পর সক্রিয় সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আফগানিস্তানে এখনও দেশটির ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১০ সালে ইরাক অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করলে সেখান থেকে প্রায় সব সেনা প্রত্যাহার করা হয়। তবে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের উত্থানের পর তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তার জন্য দেশটিতে এখনো প্রায় সাড়ে তিনশ মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সিরিয়া বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণের নিমিত্তে সেখানেও কিছু মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। তবে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটিতে মাত্র ৬০ মার্কিন সেনা রয়েছে।
সৈন্য সংখ্যা কমানোর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ১৯৪০ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে সেনা সংখ্যা এতটা কম হবে।১৯৪১ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেওয়ার আগের বছরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী নিয়োজিত সৈন্য সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৭০ হাজার। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার আগের বছর সৈন্য সংখ্যা ছিল চার লাখ ৮০ হাজার।
আগামী অক্টোবরে বাজেট হ্রাস কার্যকর হলে সেনাবাহিনী থেকে আরও ৩০ হাজার সৈন্য ছাটাই করা হবে বলে ইউএসএ টুডে জানিয়েছে।

