আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভিয়েনায় চলমান ইরানের পরমাণু আলোচনার মেয়াদ তিনদিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমাদের মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ইরানের পরমাণু কমসূচি বন্ধে ছয় জাতি গোষ্ঠির সঙ্গে আজ চূড়ান্ত চুক্তির শেষ দিন ছিল। তবে ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘের আরোপিত ক্ষেপনাস্ত্র ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার বিষয়ে সোমবারই মতবিরোধ দেখা দেয়। ইরানের দাবি চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর থেকে অস্ত্র অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ এর সঙ্গে পরমাণু প্রকল্পের কোন সম্পর্ক নেই। তবে অর্থনৈতিক অবরোধ অপসারণে একমত হলেও রাশিয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য , ফ্রান্স, চীন ও জার্মানী এর বিরোধিতা করে আসছে।
মঙ্গলবার দুপুরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি জানিয়েছিলেন, আলোচনার মেয়াদ বাড়তে পারে। মোগেরিনি ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনায় মূলত মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন।
দুপুরে আলোচনার এক ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আরো অন্তত দু’দিনের জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাবো।’ তিনি আরো জানান, একটি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দু’পক্ষ কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে সন্ধ্যায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যারি হার্ফ জানান, আলোচনার মেয়াদ শুক্রবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। তবে এই কাজ উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি দেশের অনেক বেশি ঝুঁকি রয়েছে। আমরা অকপটে সময়ের চেয়ে চুক্তির মান নিয়েই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যদিও আমরা জানি, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কঠিন সিদ্ধান্তগুলি নেয়া সহজ হয় না; আর সে কারণেই আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ভিয়েনা আলোচনার সময় বাড়ানো হলো। এর আগে ৩০ জুনের মধ্যে এ আলোচনা শেষ করে একটি সার্বিক ও চূড়ান্ত পরমাণু স্বাক্ষর করার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম পর্যায়ে সে সময়সীমা ৭ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ই অবশ্য রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অস্ত্র অবরোধ অপসারণটাই এখন মূল বিষয়। তবে এটি ছাড়াও আরো ৮/৯টি বিষয় ঘষামাজা করতে হবে।

