আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নতুন অর্থমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছে গ্রিস সরকার। সোমবার সকালে ইয়ানিস ভারুফাকিসের পদত্যাগের পর তুলনামূলক নমনীয় বলে পরিচিত এসক্লিদিস সাকালোতস তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। নতুন অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে গ্রিসের ঋণ সংক্রান্ত আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অক্সফোর্ড ডিগ্রিধারী সাকালোতস গ্রিসের রাজনীতিতে নতুন নন। ৫৫ বছরের এই নেতা প্রধান অর্থনৈতিক মুখপাত্র এবং সিপ্রাস সরকারের কার্যকরী ছায়া অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ২০১২ সাল থেকে সিরিজা সরকারের সাংসদ হিসেবে কাজ করেছেন। কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন প্রায় এক দশক ধরে।
১৯৮৯ সালে অক্সফোর্ড থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি লাভ করেন সাকালোতস। এর আগে অবশ্য তিনি ওই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি, দর্শন ও অর্থনীতিতে স্নাতক লাভ করেছিলেন।
তবে নেদারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সাকালোতস এখন পর্যন্ত রাজনীতি থেকে শিক্ষাক্ষেত্রেই বেশি দক্ষতা দেখিয়েছেন। এথেন্স ইউনিভার্সিটি অফ ইকোনোমিক্সের এই অধ্যাপক গ্রিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গর্ভনর ইয়ানিস তুর্নানারাসের সঙ্গে সহ-লেখক হিসেবে বই লিখেছেন ।
তারপরও অনেকের ধারণা, তুলনামূলক কম বিতর্কিত সাকালোতসকে দাতারা ভালভাবে গ্রহণ করবে । নতুন অর্থমন্ত্রী আচরণে নমনীয় হলেও সিপ্রাস সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় খুব একটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
রোববার বেলআইট প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে ‘না’ বিজয়ী হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগ করেন সে দেশের অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারোফাকিস। তার এ ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। কেননা দেশটির বামপন্থি সরকারের মন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেও ‘না’ ভেটের পক্ষেই প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তিনি গ্রিসের ঋণদাতাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলেও অভিহিত করেছিলেন।
সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,‘গণভোটের ফলাফল ঘোষণার পর আমি ইউরো গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকারীদের পক্ষপাতের বিষয়ে সতর্ক হয়েছি।’ তাই ইউরোপী দেশগুলোর সঙ্গে নতুন আলোচনায় যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ভারোফাকিস।

