নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতির দুষ্টু চক্রে আবদ্ধ ঢাকার দক্ষিণ (ডিএসসিসি) ও উত্তর (ডিএনসিসি) সিটি করপোরেশন। বিধিবহির্ভুতভাবে জ্বালানি তেলের বিল পরিশোধ, ভ্যাট কর্তন ও নির্ধারিত হারে আয়কর আদায় না করা, বিভিন্ন খাতের আদায়কৃত অর্থ জমা না দেয়া, বিধিবহির্ভূতভাবে ঠিকাদারকে ফি দেয়া, প্রকল্প প্রণয়নের আগেই পরামর্শক নিয়োগ, নিম্নমানের কাজ, আর্থিক ও অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকে কম সুদে টাকা রাখা ও অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধিতে এসব দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতির করে করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন। বিশেষ করে দুই সিটি করপোরেশন ভাগ হওয়ার পর সেখানে নিয়োগ দেয়া প্রশাসকদের আমলেই দুর্নীতি বেশি হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, সাবেক প্রশাসকদের এ দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। সংসদীয় কমিটিও দুই সিটির দুর্নীতি নিয়ে একাধিক আপত্তি জানিয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আবার মাঠে নেমেছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ও। গত ২২ জুন মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে উপসচিব (আইন) মো. ঈশান আলী রাজা বাঙালী স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ দেয়া হয়েছে। এজন্য ওই আদেশে একটি কমিটিও করে দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মো. শহীদুল ইসলাম ও উপসচিব (আইন) মো. ঈশান আলী রাজা বাঙালী।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত ওই অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গঠিত কমিটি ২৯ জুন সকাল ১০টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসকদের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সংগঠিত অনিয়মের বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস কক্ষে এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কিন্তু ওই দিন সেখানে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই কাগপত্রসহ উপস্থিত হতে পারেননি। ২৮ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে চাহিত তথ্যসহ ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমানের দপ্তরে উপস্থিত থাকতেও বলা হয়েছিল।
তদন্তকালে ২০১১-১২ অর্থ বছর হতে ২০১৪-১৫ অর্থ বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব এবং উন্নয়ন আয় ব্যয়ের হিসাব বিবরণী, স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমান ও ব্যয়ের হিসাব এবং সকল উন্নয়ন প্রকল্প এবং দরপত্রের তালিকাসহ সবাইকে উপস্থিত থাকতে হবে। কিন্তু ওই দিন অনেকেই উপস্থিত না থাকায় তদন্তটি সমাপ্ত করা যায়নি বলে সিটি করপোরেশনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের চাওয়া তথ্য সংগ্রহ করার জন্য এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের সব বিভাগীয় কর্মকর্তারা কাজ করছেন। রাত জেগেও তারা করপোরেশনের আর্থিক হিসাব মিলাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। সোমবার করপোরেশনের কয়েকজন বিভাগীয় কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়েও এমন চিত্র দেখা গেছে।
ডিএসসিসির সহকারী সচিব মো. শাহজাহান আলী বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্তের বিষয়ে কাজ করছি। করপোরেশনের প্রতিটি কর্মকর্তাই এখন ব্যস্ত।’
সিটি করপোরেশনের কয়েক জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘প্রশাসকদের দায়িত্বপালন কালে প্রয় দশ হাজার কোটি টাকার মতো উন্নয়ন করা করা হয়েছে। অথচ এই কাজের ১০ শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও রাজধানী ঢাকা উন্নত বিশ্বের কোনো একটি শহরে পরিণত হতো। কিন্তু এর কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। ভুয়া বিল-ভাউচারে ও দুর্নীতির মাধ্যমেই টাকাগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।’

