ঢাকাMonday , 6 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্দেশনা মানছে না ২২ বাণিজ্যিক ব্যাংক

Link Copied!

Banladesh Bankঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : মে মাসে ঋণের ক্ষেত্রে সুদহার কমে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের মাসেও যা ছিল ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সুদহারে এ নিম্নমুখী প্রবণতা ঋণ আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) রেকর্ড পরিমাণ নিচে নেমে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঋণ হার ‘সিঙ্গেল ডিজিটে’ নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ঋণ-আমানতের সুদহার কমাতে পারছে না। যদিও এ হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা আছে।
জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে আমানত ও ঋণ উভয় ক্ষেত্রে সুদ হার কমছে। ফলে গত মার্চে আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড) রেকর্ড পরিমাণ কমে ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নেমে এসে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।
গত এপ্রিলে স্প্রেড আরও কমে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশীয় পয়েন্টে নেমে আছে। সর্বশেষ মে মাসে স্প্রেড আরও কমে ৪ দশমিক ৮৩ শতাংশীয় পয়েন্টে নেমে এসেছে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রদর্শিত তথ্যের মধ্যে ২০১৩ সালের পর সর্বনিম্ন।
এর আগে স্প্রেড ৫ শতাংশের নিচে ছিল ২০১৩ সালের এপ্রিলে ৪ দশমিক ৯৯, মে ৪ দশমিক ৯৮ এবং ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘স্প্রেড কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থানে আছে। ফলে আগের চেয়ে স্প্রেড কমে যাচ্ছে। এটি আরও কমবে। আর স্প্রেড কমে এলেই ঋণের সুদের হারও কমে যাবে।’
যেসব ব্যাংকের স্প্রেড বেশি আছে তাদের কাছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জুনে স্প্রেড আরও কমে আসবে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা আমানতের বিপরীতের সুদ আর গড়ে ২ শতাংশ কমিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো। জুন থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত মে মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ হারে সুদ আদায় করেছে। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ সুদ। স্প্রেড দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশীয় পয়েন্ট।
বিশেষায়িত ব্যাংকের স্প্রেড সবচেয়ে কম, মাত্র ১ দশমিক ৫১ শতাংশীয় পয়েন্ট। আমানতের বিপরীতে দিয়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর ঋণের ক্ষেত্রে ভারিত গড় সুদ হার ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাঁড়িয়েছে।
তবে বিদেশি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো স্প্রেড এখনো ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের উপরে আছে। বিদেশি ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ সুদ দিয়ে ঋণের বিপরীত আদায় করছে ১১ দশমিক ১২ শতাংশ সুদ। এ খাতের ব্যাংকগুলোর স্প্রেড সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৯১ শতাংশীয় পয়েন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না ২২ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে ১৭টিই বেসরকারি ও পাঁচটি বিদেশি ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণের সুদের হার কমাতে ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশ আছে। যেসব ব্যাংকে বেশি ব্যবধান আছে তাদের নামিয়ে আনার জন্য একাধিকবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি স্প্রেড আছে বিদেশি খাতের স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। এরপর আছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির স্প্রেড ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ঋণের একটি বড় অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের। এ খাতের ঋণের সুদের হার বেশি।
এছাড়া তাদের ভোক্তা ঋণের সুদের হারও বেশি। যে কারণে তাদের ঋণের গড় সুদের হার বেশি। এদিকে তারা আমানতের বিপরীতে খুব কম সুদ দেয়। যে কারণে তাদের স্প্রেড বেশি।
ঋণ ও আমানতের সুদের হারের ব্যবধানের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে বেসরকারি খাতের ডাচ্ বাংলা ব্যাংক। তাদের এ ব্যবধান ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ ব্যাংকটিও খুব কম সুদে আমানত সংগ্রহ করে। আবার ঋণের সুদের হার বেশি। যে কারণে তাদের স্প্রেডও বেশি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ওয়ান ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের স্প্রেড ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ।
অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে এবি ব্যাংকের স্প্রেড ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংকের ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ, দি সিটি ব্যাংকের ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৫ দশমিক ২২ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংকের ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংকের ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, পূবালী ব্যাংকের ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংকের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংকের স্প্রেড ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। নির্দিষ্ট পরিমাণ জমার অজুহাত দেখিয়ে বিদেশি ব্যাংকগুলো সঞ্চয়ী হিসাবে সুদ দেয় না।
এছাড়া নির্ধারিত ছকের বাইরে টাকা তোলার কারণেও সুদ দেয় না। এসব কারণে বিদেশি ব্যাংক থেকে গ্রাহকরা সঞ্চয়ী হিসাবের বিপরীতে কোনো সুদ পায় না। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের স্প্রেড ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ, উড়ি ব্যাংকের ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এর ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ, এইচএসবিসি ব্যাংকের ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ ও কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ স্প্রেড আছে।