ঢাকাMonday , 6 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নৌ রুটে কঠোর এবার বিআইডাব্লিউটিএ

Link Copied!

lounchনিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের ঈদ সার্ভিসে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনসহ যে কোনো অনিয়মে জরিমানার পাশাপাশি লঞ্চের পারমিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লঞ্চ দূর্ঘটনা রোধে এবং দূরের যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতে লঞ্চ মালিকদের এভাবেই কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।
ফি বছর ঈদে ঘরে ফিরতে গিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই লঞ্চ ডুবে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। সেসব মর্মান্তিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দুর্ঘটনা প্রতিরোধেই বিআইডাব্লিউটিএ-কে কঠোর হওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের এমন নির্দেশ কতটুকু মানবেন লঞ্চ মালিকরা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কেননা এই কর্তৃপক্ষেরই একটি অসাধু অংশ অর্থের বিনিময়ে চলাচলের অযোগ্য লঞ্চকেও অনুমতি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তারপরও এবার লঞ্চ দূর্ঘটনা রোধে এবং মালিকদের অবহেলার ব্যাপারে বেশ সতর্ক রয়েছে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। তারা ইতোমধ্যেই লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। সেই বৈঠকে প্রতি লঞ্চে অভিজ্ঞ ও দক্ষ মাস্টার এবং চালকের বিষয়টি নিশ্চিত করতে লঞ্চ মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সতর্ক করে দেয়া হয়েছে জরিমানা ও শাস্তির ব্যাপারেও।
এদিকে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের এমন হুসিয়ারীকে কোনভাবেই আমলে নিচ্ছে না লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। গতবারের মতো এবারও অতিরিক্ত যাত্রী তুলবেন এবং তাদের লঞ্চ পূর্ণ করে তারপর লঞ্চ ছাড়বেন বলে জানালেন লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ ও ধারণক্ষমতা বলতে কোন শব্দ নেই। বাস ও ট্রেনেও তো অতিরিক্ত যাত্রী ওঠে এবং ওইসব পরিবহনের ছাদে পর্যন্ত যাত্রী নেয়া হয়। অনেক দূর্ঘটনা ঘটে। কই তখন তো এসব প্রশাসনের চোখে পড়ে না। তাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।’
অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া কি ঝুকিপূর্ণ নয়- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যাত্রীরা তো উঠবেই। তাদের বাড়ী যেতে হবে। আর আমরাই বা কি করবো। এ বিষয়টি তো পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষও রোধ করতে পারছে না।’
লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘তারা যতই বক্তব্য দিয়ে থাকুক না কেন তাদের ব্যাপারে আমরা এবার কঠোর হচ্ছি। এবার কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।’
সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, টিকেট কিনতে আসা যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে অনেক লঞ্চকে ঘাটেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পুরনো লঞ্চগুলোকে নতুন করে রাঙানো হয়েছে রঙে। লাগানো হয়েছে নতুন নতুন বডি। পুরনো লঞ্চগুলোকে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। প্রতি লঞ্চে এবার ধারণক্ষমতা ও কতজন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম তা এবং অন্যান্য বিভিন্ন তথ্য লঞ্চে ওঠার প্রথম গেটের সামনেই বড় বড় অক্ষরে লিখে দেয়া হয়েছে।
গত ঈদের সময় বর্ষা ছিল না। এবার বর্ষা হওয়ার কারণে নৌ-রুট বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। ফলে বিআইডাব্লিউটিএ এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। কোনো লঞ্চে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে না পারে তার জন্য পুরো সদরঘাট এলাকায় প্রতিবারের মতোই থাকবে ৬ জন করে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর। থাকবে র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরাও। এ ছাড়াও তাদের সঙ্গে একজন করে মেজিস্ট্রেট থাকবে সার্বক্ষণিক। আর এ ভ্রাম্যমান আদালত থাকবে ঈদের দিন পর্যন্ত। এর বাইরে তৎপর রয়েছে কোস্টগার্ডও। এবার যেন ঝুঁকি নিয়ে কোনো লঞ্চ চলতে না পারে তার জন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখবে কোস্টগার্ডের সদস্যরা। তারা সার্বক্ষণিক এসব বিষয় দেখভাল করছেন। এছাড়াও তারা ঘাটে ঘাটে মাইকের মাধ্যমে চালকদের সতর্ক বার্তাও জানাবেন।
লঞ্চ মালিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে ১১টি নতুন লঞ্চ নামছে। নতুন লঞ্চগুলো হচ্ছে ধুলিয়া-১, সুন্দরবন-১১, সুরভী-৯, মহারাজ-৭, প্রিন্স রাসেল-৪, জামাল-৫, মর্নিংসান-৫, ফারহান-৬, ফারহান-৫, ইয়াদ-৩ ও কাজল-৭। এসব লঞ্চ পটুয়াখালী, কালাইয়া, চাঁদপুর, বরিশাল, ভাণ্ডারিয়া, মোষেরহাট, বেতুয়া ও পাতারহাটে ঈদের দিন পর্যন্ত চলবে। এছাড়াও আরও ৬ থেকে ৭টি বিশেষ লঞ্চ থাকবে বলে জানা গেছে।
ঈদের জন্য জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকেই কেবিনের টিকেট ছাড়া শুরু হয়েছে। তা চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। তবে কোনো কেবিনে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা হয় তার জন্য প্রতি কেবিনের ভাড়াও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এ ভাড়ার অতিরিক্ত নিলেই জরিমানা করা হবে লঞ্চ মালিককে।