নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বাস মালিকরা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, ঘর মুখো মানুষের চাহিদা দেখেই মালিকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে বাস মালিকদের দাবি, ঈদের আগে তারা রাজধানী থেকে যাত্রী ভর্তি পেলেও ঢাকা ফেরার সময় যাত্রী পান না। খালি বাসের লোকসান পোষাতেই ভাড়া কিছুটা বৃদ্ধি করেছেন। এদিকে বাসের অগ্রিম টিকেটও পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত দামের দ্বিগুনে কালোবাজারিদের হাত থেকে পাওয়া যাচ্ছে বাসের টিকিট। তবে বাস মালিকরা বলছেন, আগামী ১৬ এবং ১৭ তারিখের টিকিট নেই। ওই দিনই অধিকাংশ অফিস ছুটি হওয়ায় টিকেটের চাহিদা বেশি। সব টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে।
রোববার রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দু’দিনের মতো আজ রোববার ভোর রাত থেকে কাউন্টারগুলোতে ভিড় করেছেন টিকিট ক্রেতারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছেন না চাহিদা মতো নির্ধারিত দিনের টিকিট। কিন্তু কাউন্টারের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গন্তব্যের টিকিট। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চট্টগ্রাম, ক্সবাজার, সাতকানিয়া, চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেটসহ দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে।
আজ সকালে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে কথা হয় নোয়াখালীর অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করতে আসা যাত্রী ইয়াসিন আরাফাতের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে নোয়াখালীর ভাড়া সাধারণত ৩৫০ টাকা। কিন্তু সাড়ে চারশ’ টাকা দিয়েও ঈদের দু’দিন আগের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না। ৬০০ টাকা দিলে এক ব্যক্তি কিছু টিকেট সংগ্রহ করে দিতে পারবেন বলে আমাকে অফার দিয়েছেন। কিন্তু এতো টাকা কীভাবে দিই?
তবে টিকিট বিক্রেতারা জানান, ভাড়া কিছুটা বেশি নেয়া হচ্ছে। কারণ, ঈদে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় অধিক যাত্রী পাওয়া যায়। কিন্তু ঢাকায় ফেরার সময় গাড়িগুলো খালি হয়ে ফিরতে হয়। এজন্যই ওই কয়েকদিন ভাড়া কিছুটা বেশি নেয়া হয়। অন্যান্য সময়ের চেয়ে টিকেট প্রতি ৭০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে বলা হলেও যাত্রীদের অভিযোগ দুই থেকে তিনশ’ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
হিমাচল পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার নোমান বলেন, ‘যাত্রীর চাপ এখনো বাড়েনি। তবে ঈদের আগের টিকেট সঙ্কট রয়েছে।’
অতিরিক্ত ভাড়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘একমাত্র আমরাই নির্ধারিত দামে যাত্রী নিচ্ছি। অন্যরা বেশি ভাড়া নিতে পারে।’

