ঢাকাSaturday , 4 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মোড়কে পাট: আইন তো রয়েছে, মানছে কে?

Link Copied!

jute-bagনিজস্ব প্রতিবেদক : ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সারের মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহারের আইন থাকলেও অন্যান্য আরো অনেক আইনের মতোই এটিও মানা হচ্ছে না। বড় বড় দোকান, চালের আড়ৎসহ সংশ্লিষ্ট কারখানায় এখনো দেদারসে চলছে প্লাস্টিকের বস্তা; যেন আইনের তোয়াক্কা করারও কেউ নেই আর তা দেখারও কেউ নেই।
এ সম্পর্কে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নাসিমা বেগম বাংলামেইলকে বলেন, ‘ধান, চালসহ বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে শতভাগ পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাস্তবায়নের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্ত রাতারাতি সবাই এসব ব্যবহার করবে এমন নয়। সময় লাগবে।’
নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে না- যুগ্মসচিবের কাছে এমন অভিযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকরা এটা পরিচালনা করে থাকেন। তারা অনেক কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই বিভিন্ন কারণে কাঙ্ক্ষিত অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
গত মে মাসের একটি হিসাবে দেখা গেছে, টাঙ্গাইল, বগুড়া, শেরপুর ও পাবনা জেলায় ৪টি করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার কথা থাকলেও টাঙ্গাইল ও বগুড়ায় পরিচালনা করা হয়েছে একটি করে অভিযান, শেরপুর আর পাবনায় তাও হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় একই সংখ্যাক মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা থাকলেও এ জেলা দুটিতেও হয়েছে একটি করে অভিযান। তবে দিনাজপুরে ৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। বাকী জেলাগুলোতে কমপক্ষে দুটি করে অভিযান পরিচালনা করার কথা থাকলে বেশির ভাগ জেলায় কোনো অভিযানই চালানো হয়নি।
২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের মে মাস পর্যন্ত সর্বমোট ২২৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। আর এই অভিযানে ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্লাস্টিকের বস্তা যে হারে ব্যবহৃত হচ্ছিল তা হয়েই যাচ্ছে।
ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সারের মোড়কীকরণে আইন করে যে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে সে বস্তার দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আর আইন ভঙ্গ করে যে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে তার দাম অর্ধেক, ২০ টাকা। দামের এ তারতম্যের বিষয়টি নাসিমা বেগমের দৃষ্টিতে আনা হলে তিনি বলেন, ‘এখন পাটের বস্তা ৩২ থেকে ৩৪ টাকায় পাওয়া যায়। এই বস্তার দাম আরো কীভাবে কমানো যায় তার চিন্তা-ভাবনা চলছে।’
সবাই পাটের বস্তার ব্যবহার শুরু করলে এই বস্তার দাম এমনিতেই কমে যাবে বলেও মনে করছেন এই যুগ্ম-সচিব। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পলিথিন নিষিদ্ধের জন্য পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হয়েছে।’
কেন প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করেন- জানতে চাইলে আজিমপুরের ক্ষুদে চাল বিক্রেতা আকরাম ব্যাপারী বলেন, ‘আমাদের কী করার আছে? আড়ৎ থেকে যে মোড়কে পাই সেভাবেই আমরা বিক্রি করি। তারা যদি পাটের বস্তায় চাল দিত আমরাও তাই বিক্রি করতাম। আর আড়ৎদারই কী করবে, মিল মালিকরাইতো প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রি করে।’
পাটজাত মোড়ক, যেমন- পাটের বস্তা পরিবেশবান্ধব, বারবার ব্যবহার করা যায় ও মাটির সঙ্গে মিশে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া পাটের বস্তায় সংরক্ষিত খাদ্যদ্রব্যের গুণগতমানও অক্ষুণ্ণ থাকে। অন্যদিকে প্লাস্টিক বস্তা, পলিথিন ব্যাগ মাটিতে পচনশীল না হওয়ায় মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। নালা-নর্দমায় জমে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিঘ্ন ঘটায়। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নদী, পুকুর, খাল-বিল-ঝিল ইত্যাদি জলাশয়ের পানি দূষিত করে। ফলে জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়। এছাড়া কৃত্রিম মোড়কে সংরক্ষিত খাদ্যের গুণগত মান বিনষ্ট হয়।
ওইসব বিষয় বিবেচনা করে সরকার কৃত্রিম মোড়ক ব্যবহারজনিত কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধকল্পে পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০ প্রণয়ন করে, যা ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
এই আইন অনুয়ায়ী খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সংগৃহীত ধান, চাল ও গমের মোড়কীকরণের ক্ষেত্রে শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে। তফসিলভুক্ত পণ্য ভুট্টার মোড়কীকরণেও শতভাগ ভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে। রাইসমিল অথবা চাতালমালিক ও চালের দোকানদারদের ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে শতভাগ পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে। দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সারের ৫০ শতাংশেরও মোড়কীকরণে পাট ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।
উল্লেখিত আইন অনুয়ায়ী- ধান, চাল, গম, ভুট্টা, চিনি ও সার মোড়কীকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার না করে কোনো ব্যক্তি কৃত্রিম মোড়কের ব্যবহার, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করলে বা করার অনুমতি দিলে অনুর্ধ্ব ১ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই অপরাধ ফের করলে সাজা দ্বিগুন হবে।
সাজার বিধান থাকলেও তা প্রয়োগের অভাবে দেদারসে চলছে প্লাস্টিক আর পলিথিনের ব্যবহার। সিঁকিভাগও পাটের মোড়ক ব্যবহার হচ্ছে না।