অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ‘বাংলাদেশ বীজ খাতের সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, বীজ খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাত হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন। এবং নীতি ও আইনে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কাওরানবাজারস্থ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বেসিস কনফারেন্স হলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইং ও দৈনিক বণিক বার্তা যৌথ আয়োজিত আলোচনা শেষে এসব বিষয়ে সুপারিশ উঠে আসে।
বীজের জাত উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলাকে আরো দায়িত্ব ও কার্যকর ভূমিকা নেয়া প্রয়োজন বলেও সুপারিশ করা হয়েছে।
দৈনিক বণিক বার্তার স্টাফ রিপোর্টার সাহানোয়ার সাইদ শাহীনের ‘উন্নয়নে বাংলাদেশের বীজ খাত’ বিষয়ক একটি প্রবন্ধের উপর প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বীজ উইংয়ের মহাপরিচালক আনোয়ার ফারুক বলেন, আমরা সবাই কৃষকের জন্য কাজ করি। আমাদের প্রথমে জানতে হবে কৃষক কী চায়? তারা কোয়ালিটি ভাল বীজ এবং ভাল সফল চায়। এটা সরকারি এবং বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষি সেক্টরে সরকারের সীমাবদ্ধতা আছে, তারপরেও বাংলাদেশ ফসল উৎপাদনের দিক থেকে এগিয়ে আছে।
বাংলাদেশ পাট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বীজ নিয়ে ভাবনা একটি চমৎকার উদ্যোগ। সারাদেশে ৪০ লাখ পাট চাষীর জন্য ৫ হাজার ৬শ’ টন পাট বীজের চাহিদা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনকে ( বিএডিসি) পাট বীজ উৎপাদন বাড়াতে হবে। এবং কৃষক পর্যায়ে তা সরবরাহ করতে হবে। তাহলেই পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় নীতি ও আইনের আওতায় আসা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচাক ও ব্র্যাকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুবুর হোসেন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে প্রাইভেট সেক্টরের অবদান অনেক। সরকারের বীজ উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের বীজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সরকারের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নতুন নতুন উন্নত জাতের কোয়ালিটি বীজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে সমানে কাজ করতে হবে।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহিদুল রশিদ ভূইয়া বলেন, আমাদের কৃষিতে টিকিয়ে রাখতে হলে বেসরকারি খাতে বীজ উৎপাদন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএডিসি ) তৈল ও ডাল বীজ উৎপাদনে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এসিআই’র লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক ড. ফা হ আনসারী বলেন, প্রাইভেট সেক্টরে বীজ উৎপাদন বাড়াতে হবে। ভাল বীজ মানে ভাল ফসল এটা কৃষকদের বোঝাতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ( মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) চৈতন্য কুমার দাস, সুপ্রিম সিডের চেয়ারম্যান মো. মাসুম, ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রজেক্টের ( এনএটিসি) প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল রাজ্জাক, ব্র্যাকের এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রধান সুধীর চন্দ্র নাথ, আইএফসি’র সহযোগী পরিচালক হোসেন ফেরদৌস সুমি, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবুর কালাম আজাদ বক্তব্য রাখেন।

