আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রোববার মূল ভোটানুষ্ঠান হওয়ার পূর্বে গ্রিকদের জনমত যাচাইয়ে নেমেছে অ্যালকো ইন্সটিটিউট, এবং এতে যা ফলাফল বেরিয়ে এসেছে, তাতে গ্রিসের পরিণত কী হবে তা নিয়ে ঘোরালো দেখা দিয়েছে ঘোরালো সন্দেহ। কেননা, জরীপে দেখা যাচ্ছে ৪৪.৮ শতাংশ গ্রিক দাতারা যে শর্তাবলী প্রদান করেছেন ঋণ মুক্ত হওয়ার জন্যে (বেল আউট) তা মানতে রাজি হয়েছেন এবং ৪৩.৪ শতাংশ তা মানতে রাজি হননি।
ব্যবধানটা এতোটাই কম যে একদিন বাদে গ্রিস কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। তবে গণতান্ত্রিক সরকার অবশ্যই গণসিদ্ধান্তে মত দেবে, আর এজন্যে দোটানায় ভোগা সিপ্রাস সরকার আম-মানুষের হাতেই ছেড়েই দিয়েছে দেশটির ভাগ্য। এখন দাতারা ২৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ প্রদানের বিপরীতে যে শর্ত দিয়েছেন, জুড়ে সিরিজা পার্টি তার সবক’টির সঙ্গে একমত নয়। কিন্তু একমত না হলে যে ‘শাস্তি’ মাথা পেতে নিতে হবে, সেটিও গ্রহণে আগ্রহী নয়।
অর্থাৎ গ্রিস একই সঙ্গে ঋণও চায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নেও থাকতে চায়। ঋণ চাইছে কারণ পেলেই কেবল আগামী দুই বছরে ঋণমুক্ত হওয়ার কার্যক্রম আরম্ভ করতে পারবে। আর ইউরো মুদ্রাব্যবস্থায় থাকতে চাইছে কারণ তাতে বৈশ্বিক তারল্যের সঙ্গে ভবিষ্যতে খাপ খাইয়ে চলা হবে সুবিধাজনক। উপরন্তু ইউরো থেকে বেরিয়ে গেলে নিজেদের মুদ্রা বানানোর মতো টাকশালও তাদের নেই। যেহেতু পুঁজি সঞ্চয়নের স্বার্থে ব্যাংকগুলো বন্ধ এবং মানুষগুলোও হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে দাতাদের কথা না শুনে আর উপায় নেই, সেহেতু মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করার মতো মনের জোর হয়ত পারবে না দেখাতে, সিরিজাপ পার্টি।
শেষতক হয়তো গ্রিসের জন্যে অবমাননাকর বেশ কিছু শর্তসহ সবটাই মেনে নিতে হবে গ্রিসের। এটা কৃচ্ছতানীতি থেকে বেরিয়ে আসার স্বপ্ন দেখানো সিরিজা পার্টির জন্যে নিঃসন্দেহে কঠিনতম পরীক্ষা।
এদিকে গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে বামপন্থী বিক্ষোভ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। কিন্তু সরকার নিরুপায়, ঐ বিক্ষোভ খেদিয়ে আপাতত বিশৃঙ্খলা থেকে দেশ বাঁচানোর জন্যে পুলিশের আশ্রয় নেয়া ছাড়া দ্বিতীয় উপায় খোলা নেই। দেখা যাক, রোববারের ভোট কোন পথে নিয়ে যায় গ্রিসকে।

