নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের পরেই দেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছিল ‘দাওয়াতে তাবলিগ’ নামের জঙ্গি সংগঠনের কর্মীরা। নিষিদ্ধ হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি)-এর এসব নেতাকর্মী আপাতত দাওয়াতে তাবলিগ নামে কাজ চালালেও শিগগিরই ‘৩১৩ বদরের সৈনিক’ নামে আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় ছিল। সবশেষে নিজেদেরকে সুসংগঠিত এবং যোগ্য করে তুলে আল কায়েদায় যোগদানের লক্ষ ছিল আটক জঙ্গিদের।
বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া ১২ জঙ্গির ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানানো হয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
র্যাব জানায়, আটকদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশের আল-কায়েদা (একিউআইএস) শাখার বাংলাদেশের সমন্বয়ক মুফতি মাইনুল ইসলাম (৩৫) ও উপদেষ্টা মাওলানা জাফর আমিনও (৪০) রয়েছেন। আটক অন্য নেতাকর্মীরা হলেন, মো. সাইদুল ইসলাম (২০), মো. মোশাররফ হোসেন (১৯), আব্দুর রহমান বেপারী (২৫), আল আমিন (২৮), মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৩১), আশরাফুল ইসলাম (২০), রবিউল ইসলাম (২৮), মো. হাবিব উল্লাহ (২৬), মো. শহীদুল ইসলাম (২৯) ও আলতাফ হোসেন (২৬)।
গত বুধবার সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর সদরঘাট, বিমানবন্দর রেলস্টেশন ও মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব জঙ্গিকে আটক করে র্যাব-৪। এসময় তাদের কাছ থেকে আড়াই লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড, ১ লিটার অ্যাসিটন, ১ কেজি গন্দক, ১ কেজি সালফার, ৪০০ গ্রাম পটাসিয়াম ক্লোরেড, ৫ কেজি সোডিয়াম বাই কারবোনেট, ২লিটার গ্লিসারিন, ৫৫০টি মারবেল, প্রচুর দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক ডিভাইস, ১৪৯টি জিহাদী বই, বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
ব্রিফিংয়ে মুফতি মাহমুদ খান জানান, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হুজির শীর্ষনেতা মাওলানা মুফতি মাইনুদ্দিন, যিনি দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে অন্তরীণ রয়েছেন, তার সঙ্গে শলাপরামর্শ করে নতুনভাবে জঙ্গি কার্যক্রম সংগঠিত করছেন গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা। কারাগারের ভেতর থেকেই মুফতি মাইনুদ্দিন মোবাইল ও চিঠির মাধ্যমে আত্মগোপনে থাকা হুজির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগযোগ রক্ষা করেন এবং দিক নির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, ঈদের পরে রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল এসব জঙ্গি। সেই লক্ষে মূলত রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জায়গা থেকে জঙ্গিদের একত্রিত করা হচ্ছিল রাজধানীতে। এছাড়া কারাগারে অন্তরীণ হুজির নেতা মুফতি মাইনুদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীকে কারাগার থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা করছিল তারা।
জঙ্গি নেতা এবং ভারতীয় উপমহাদেশের আলকায়েদার বাংলাদেশীয় প্রধান সমন্বয়কারী মাইনুল ইসলাম ও উপদেষ্টা মুফতি জাফর আমিনের নেতৃত্বে এসব জঙ্গি আলকায়েদায় যোগদান এবং বাংলাদেশে আল কায়েদার সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে জানায় র্যাব।

