ঢাকাTuesday , 30 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের চুক্তি আজ

Link Copied!

Karnafully-tannelনিজস্ব প্রতিবেদক : বন্দর নগরী চট্টগ্রামের যানজট দূর করতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল (সুড়ঙ্গ) নির্মাণ প্রক্রিয়া এখন চুড়ান্ত। দেশের প্রথম এই টানেল নির্মাণে আজ (মঙ্গলবার) চীনের বেইজিং-এ সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সঙ্গে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি) লিমিটেড এর চুক্তিও সই হবে।
এর আগে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়।
কর্ণফুলী নদীর মোহনায় কাফকো-পতেঙ্গা পয়েন্টে টানেলটি নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। এটি নদীর পশ্চিম পাশে সি-বিচের নেভাল গেট পয়েন্ট থেকে নদীর ১৫০ ফুট নিচ দিয়ে অপর পাশে গিয়ে উঠবে। এবং দক্ষিণ পাড় থেকে সংযোগ সড়ক দিয়ে বাঁশখালী সড়কে গিয়ে মিলবে।
চায়না এক্সিম ব্যাংকের ঋণ সহায়তায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
এছাড়া গত বুধবার (২৪ জুন) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়। তবে এখনো উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুমোদনসহ ঋণের শর্তও এখনো চূড়ান্ত হয় নি বলে সেতু বিভাগের সূত্র জানায়।
জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে এই টানেলটি নির্মাণের জন্য ২০১৩ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই করে সিসিসিসি ও হংকংয়ের ওভিই অরূপ অ্যান্ড পার্টনারস। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।
চূড়ান্ত করা টানেলটির দৈর্ঘ্য সাড়ে তিন কিলোমিটার। এর পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৫ কিলোমিটার ও পশ্চিম প্রান্তে ৭৪০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর থেকেই টানেলটি নির্মাণে আগ্রহ দেখায় সিসিসিসি। জিটুজি ভিত্তিতে এতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখায় চীন সরকার।
এজন্য গত বছর ৯ জুন চীন সরকারের সঙ্গে ও ২২ ডিসেম্বর সিসিসিসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যিক প্রস্তাব দেয় সিসিসিসি। আর কঠিন শর্তের ঋণে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয় চীনের এক্সিম ব্যাংক। টানেল নির্মাণে সিসিসিসি ব্যয় প্রাক্কলন করেছে ৭০ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এ অর্থ ঋণ হিসেবে দেয়ার কথা চায়না এক্সিম ব্যাংকের। এজন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ব্যাংকটির প্রতিনিধি দল। তবে টানেলের বিস্তারিত নকশা এখনো প্রণয়ন হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণও নির্ধারণ করতে পারেনি সেতু কর্তৃপক্ষ।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন না হলেও গত বুধবার (২৪ জুন) কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তিটি অনুমোদন করে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তাই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বাংলাদেশের আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীনে গেছেন।
সেতু বিভাগের তথ্যমতে, সাধারণত চায়না এক্সিম ব্যাংক ২০ বছর মেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে, যার গ্রেস পিরিয়ড থাকে ৫ বছর। আর লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেটের (লাইবর) সঙ্গে ২ শতাংশ যোগ করে সাধারণত সুদের হার নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ১ শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি ও ২ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি এককালীন পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন থেকে চার শতাংশ হারে সুদ দিতে হতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম চীনের যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। এজন্য চুক্তিটির অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার অনুমোদন নিতে হয়। এর আগে লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামতও নেয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক চুক্তি সইয়ের পর ঋণ নিয়ে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দরকষাকষি করবে ইআরডি।
সেতু বিভাগের সূত্র জানায়, টানেল নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাবদ ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে মনে করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ফলে সব মিলিয়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াবে ৭ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। আর গত বছর সেপ্টেম্বরে ডিপিপি চূড়ান্ত করার সময় প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ টানেল নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে প্রায় ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় গাড়ি কেনার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ কোটি টাকার বেশি। টানেল নির্মাণকালীন চার বছরে সুদ বাবদ ১ হাজার ২২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা চায় চীন। পাশাপাশি নির্মাণ সামগ্রী আমদানি বাবদ কাস্টম শুল্ক ও ভ্যাট বাংলাদেশ সরকারকে পরিশোধ করতে হবে। নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের জমির দামও সরকারকে দিতে হবে।
এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সুপারিশের ভিত্তিইে কাজ করা হয়েছে। চুক্তির পর সব কিছু চূড়ান্ত হওয়ার পর ডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।