নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকলে ২০৩১ সালেই দেশে গ্যাসের মজুদ শেষ হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
রোববার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘দেশে প্রাথমিক উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ছিল ২৭ দশমিক ১২ বিসিএফ। এ পর্যন্ত (মে-২০১৫) ১২ দশমিক ৯৬ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলিত হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৪ দশমিক ১৬ টিসিএফ গ্যাস মজুদ রয়েছে (জুন-২০১৫)। চলতি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর (মে-২০১৫) পর্যন্ত ৮১৫ দশমিক ৯৮ বিসিএফ গ্যাস উত্তোলিত হয়েছে। গ্যাস উত্তোলনের ওই হার অপরিবর্তিত থাকলে আর প্রায় ১৬ বছর অর্থাৎ ২০৩১ সাল পর্যন্ত মজুদকৃত গ্যাস ব্যবহার করা যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতে গ্যাসের চাহিদা আরো বৃদ্ধি পাবে। ফলে গ্যাসের মজুদ হ্রাস পেলে অপরিবর্তিত হারে উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসের প্রেসার হ্রাসের কারণে বিদ্যমান ফিল্ডসমূহের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকবে। এই অবস্থায় বর্ধিত ঘাটতিসহ ১৬ বছরের বেশি সময় স্বল্পহারে এই গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’
সরকারদলীয় সংসদ এনামুল হকের আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশ গৃহস্থালী জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারী প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ (জানুয়ারি), যা মোট জনগণের প্রায় ১ দশমিক ১১ শতাংশ । দেশে গ্যাসের চাহিদা ও ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত কয়েক বছরের গ্যাসের উৎপাদন যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও এখনও দেশে বিদ্যমান গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় অবশিষ্টদের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে।’
দেশে প্রতিনিয়ত এলপিজি গ্যাসের চাহিদা বাড়লেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফলে নির্ধারিত মূল্যের কয়েক গুণ বেশি মূল্যে গ্রাহকদের এলপিজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে- এমন অভিযোগে প্রতিমন্ত্রী সহমত পোষণ করে বলেন, ‘দেশে এলপিজির প্রকৃত চাহিদা কত সে সংক্রান্ত সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। সরকারি পর্যায়ে এলপি গ্যাস লিমিটেড ও কৈলাশটিলা এলপিজি প্ল্যান্টের মাধ্যমে বছরে ২০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি (১৬লাখ সিলিন্ডার) বটলিং করা হয়। চাহিদার অবশিষ্ট অংশে বেসরকারি পর্যায়ে নির্মিত এলপিজি; বটলিং প্ল্যান্টের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। গৃহস্থালীতে এলপিজিকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

