নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ মাননিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিএসটিআই) ছাড়পত্র পাওয়া যে কোনো পণ্যই এখন থেকে ভারতে পরীক্ষা ছাড়াই গ্রহণ করা হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতার আগে বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হলে সে দেশের সরকারি মাননিয়ন্ত্রক সংস্থার সার্টিফিকেট ছাড়া গ্রহণ করা হতো না।’
রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আমির হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকালে বাংলাদেশ-ভারতের পণ্য আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে উভয় দেশের মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরীক্ষিত পণ্যের গুণগত মান সনদ যাতে উভয় দেশে গৃহীত হয় সে লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বিএসটিআই কর্তৃক পণ্যের গুণগত মান ভারত গ্রহণ করতে আর বাধা থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘বিএসটিআইকে আরো আধুনিক ও কার্যকর করার জন্য ভারতীয় ক্রেডিট লাইন অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় মেট্রোলোজি অ্যান্ড স্ট্রেনথিং অব বিএসটিআই শীর্ষক একটি আম্ব্রেলা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য পণ্য পরীক্ষাকরণ ছাড়াও স্বর্ণ এবং ব্রিক টেস্টিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে ন্যাশনাল মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি (এনএমএল) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিএসটিআইর কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ফুড, কেমিক্যাল, ফিজিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেট্রোলজি ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠাসহ পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক অফিস স্থাপন করা হয়েছে।’
এ কে এম রহমতুল্লাহর অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন করপোরেশন বা সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাগুলো বৈদেশিক অর্ডার নির্ভরশীল নয়। মূলত দেশীয় চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই স্থাপিত। তাছাড়া দেশের হস্ত ও কারুশিল্পীদের পণ্য বিদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘হোসিয়ারি শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের ৬৫৭টি রপ্তানিমুখি শিল্প ইউনিটসহ দেশব্যাপী বিসিকের বিদ্যমান ৭৪টি শিল্পনগরীতে ইতোমধ্যে ৯০৩টি রপ্তানিমুখি শিল্প স্থাপিত হয়েছে।’
বেগম মাহজাবিন খালেদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে শিল্পে স্বনির্ভর করতে সরকার বিভিন্নমুখি পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া আগামী ৫ বছর ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। সরকার শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি শুল্ক ও কর কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল্য শুল্কে এখন শিল্পপতিরা কাঁচামাল আমদানি করছে।’

