ঢাকাSaturday , 27 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জলের সঙ্গে বর্জ্য জটে রাজধানী!

Link Copied!

Waste-waterনিজস্ব প্রতিবেদক : যানজট তো নিত্যদিনে। তারওপর বর্ষা এলেই স্থানে স্থানে জলজট। এখন যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ বর্জ্য জট! সামান্য বৃষ্টি হলেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের রাস্তায় খোলা ডাস্টবিনগুলোর বর্জ্য ভাসতে থাকে। এর মধ্যেই কর্মজীবী মানুষ হেঁটে যাচ্ছে গা ঘিনঘিন করা অনুভূতি নিয়ে মুখ বিকৃত করে!
শনিবার নগরীর অলি-গলির পাশাপাশি এমন চিত্র দেখা গেছে খোদ মাহসড়কগুলোতেও। বৃষ্টির পানিতে মিশে পচা দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য ভেসে বেড়াচ্ছে। সেগুলো আবার ম্যানহোল দিয়ে গিয়ে পড়ছে পয়ঃ ও ওয়াসার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনে। ফলে ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশনও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে জলাবদ্ধতা আরো দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে দুই নগরপিত একের পর এক আশ্বাস দিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, দুই সিটি করপোরেশনে ১২ হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্ন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। বর্জ্য ফেলার জন্য রয়েছে ছয় শতাধিক ডাস্টবিন। এছাড়া বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করার জন্য অলিগলিতে রয়েছে শতশত ছোটখাট ভ্যানগাড়ি ও হাস্তচালিত ট্রলি। এসব ভ্যান ও ট্রলি দিয়ে ময়লা সংগ্রহ করে তা ফেলা হয় বড় ডাস্টবিনে। কিন্তু ডাস্টবিনগুলো উন্মুক্ত ও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, পল্টন, মতিঝিল, আরামবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, বনশ্রী, পান্থপথ, কলাবাগান, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, ফার্মগেট, কুড়িল বিশ্বরোড, বাড্ডা নতুন বাজার, মীরপুর, শেওড়াপাড়া, শেরে বাংলা নগরী, আগারগাঁও, মগবাজার, কাকরাইল ও শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- মূল সড়কেই ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালী বর্জ্য থেকে শুরু করে নানা ময়লা-আবর্জনা। দিন-রাত রাজধানীর ব্যস্ততম মূল সড়কগুলোতে ময়লা ফেলছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। আর সেসব বর্জ্যই ভেসে বেড়াচ্ছে রাস্তায় জমে থাকা পানিতে।
কথা ছিল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নগরবাসীর বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে রাখবে। সূর্যোদয়ের পরপরই করপোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাক এসব ময়লা নিয়ে যাবে বর্জ্য ডাম্পে। কিন্তু এসব মানা হচ্ছে না। রাতের পরিবর্তে দিন-দুপুরে খোলামেলাভাবে এসব বর্জ্য অপসারণ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। দীর্ঘদিন পর নগরবাসী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পেলেও এর আশানুরূপ কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে নতুন বাজারের ঘটনা: মূল সড়কে ময়লার স্তূপের সামনে এসে হাজির হয় একটি ভ্যান। এরপর আরও তিন-চারটি। তারা প্রত্যেকে ধুপধাপ করে মূল সড়কে ময়লা ফেলেই চলে যায়। এদের এক জনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
সমির উদ্দিন নামে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, তারা পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে তা নিয়ে আসেন রাস্তায়। এরপর সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ি এসে এসব ময়লা নিয়ে যায় বর্জ্য ডাম্পে। এই কাজে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪০০ গাড়ি ও প্রায় ১২ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত। তবে তারা সঠিক সময়ে ময়লাগুলো সরিয়ে না নেয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ময়লাগুলো পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, রাজধানীর জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, আজিমপুর, সদরঘাট, শ্যামবাজার, কাপ্তানবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, বাসাবো, ফকিরাপুল, বেইলি রোড, রামপুরা, বাংলামটর, নিউমার্কেট, হাতিরপুল, কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া, মহাখালী, বনানী, বাড্ডা, মিরপুর, টিকাটুলী, মুগদা, মানিকনগর, ওয়ারী, মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি এলাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার কনটেইনার রাখা আছে। এলাকাভিত্তিক বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের এসব নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার কথা থাকলেও অনেকেই তা করছেন না।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রকিব উদ্দিন বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কামরাঙ্গির চর ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ চলমান রয়েছে। করপোরেশনের ৫ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। বর্জ্য আনা নেয়ার জন্য আরো কিছু গাড়ির চাহিদাও দেয়া হয়েছে।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন রিপন কুমার সাহা বলেন, ‘গৃহস্থালীর বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য এলাকাভিত্তিক কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা আছে। তাদেরই মূলত এসব বর্জ্য এনে নির্ধারিত স্থানে জমা করার কথা। কিন্তু অনেকেই বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে বাসাপ্রতি মাসে ২০ থেকে ১০০ টাকা পায়। এই লোভে অনেকেই ময়লা সংগ্রহ করে। তারা সিটি করপোরেশনের কেউ না। এরাই মূলত সমস্যার সৃষ্টি করছে। পথে ঘাটে ময়লা ফেলে রাখে। এর আগেও এদের বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।’
কেউ যদি অনির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলে তাহলে তাদেরকে আটক করে করপোরেশনকে খবর দিতে অনুরোধ করেন তিনি।