অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎসে যে করহারের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী, তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ৪ জুন জাতীয় সংসদে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তৈরি পোশাক শিল্পের উৎসে কর প্রায় আড়াই গুণ বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন। বিজিএমইএ বলছে, কর হার বাড়ানো হলে এ খাত হুমকির মুখে পড়বে।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এখন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। তাই উৎস করের মাধ্যমে ১২০০ কোটি টাকা আয় করে সরকারের কি লাভ হবে, যদি দেশে বেকারত্ব বেড়ে যায়? ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশ গার্মেন্ট রপ্তানিতে ডাবল ডিজিটে প্রবৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ তা ৩ শতাংশের কম। এ অবস্থায় কর হার বাড়ানো হলে এ খাত আরো হুমকির মুখে পড়বে। আপনারা দয়া করে এ প্রস্তাব আবার বিবেচনা করুন।’
বৃহস্পতিবার কাওরান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আতিকুল ইসলাম। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্ক অ্যানারের গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মার্ক অ্যানার ছাড়াও এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের রিসার্চ ফেলো খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভলপমেন্ট স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদসহ বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এফবিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, সরকার কেন ট্যাক্স (উৎস কর) বাড়াচ্ছে। আপনারা দয়া করে এটা পুনর্বিবেচনা করুন। গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হলে অন্যান্য খাত থেকে সরকার যে ট্যাক্স পাবে তা এর (উৎস কর) চেয়ে বেশি হবে।’
পেন ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মার্ক অ্যানার তার ‘প্রাইস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট ইন দ্য গ্লোবাল অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি: বাংলাদেশ ইন কমপারেটিভ পার্সপেকটিভ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছেন, মন্দার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কাপড়ের নিত্য পণ্যের দাম ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে উৎপাদনকারী এবং সরবরাহকারী দেশগুলোতেও এর প্রভাব পড়েছে।
এই খাতে বায়ারদের আধিপত্য কমাতে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও মনে করছেন তিনি।
পরে আলোচনায় নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘বায়ারদের আধিপত্য কমাতে তাদের দেশের সরকারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কিছু করার আছে। তাছাড়া পণ্য কিনতে যথাযথ দাম দিতে ক্রেতাদের উৎসাহিত করার দরকার আছে।’
খন্দকার মোয়াজ্জেম বলেন, ‘পণ্যের দাম কমে যাওয়াটা বড় ইস্যু। কিন্তু এতে উৎপাদকদের লাভ কমলেও একইসঙ্গে বায়ারদের লাভ কমেছে কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। দেখতে হবে, রিটেইলাররা কতটুকু নৈতিকভাবে ব্যবসা করছেন।’
সবার স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য লাভের সুষম বণ্টনের প্রস্তাব করেন তিনি।
আহসান এইচ মনসুর তার বক্তব্যে উৎপাদক দেশগুলোকে নিয়ে ওপেকের আদলে জোট গড়ার কথা বলেন।

