অান্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশে দাবদাহে মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে শুধুমাত্র করাচিতেই মারা গেছে ৯৫০ জন। এবং অন্তত লক্ষাধিক তাপাহত মানুষকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
সিন্ধু অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা বৃহস্পতিবার ছিল ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সম্প্রতি তাপমাত্রা করাচিতে ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস উঠেছিল। ১৯৭৯ সালে এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রীতে ওঠার দৃষ্টান্ত রয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে মানুষের শরীর ৩৯ ও ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে ক্রমশ ঝুঁকির দিকে মোড় নিতে শুর করে। এসময় মস্তিষ্ক থেকে শরীরের পেশিগুলোয় শিথিল হয়ে যাওয়া নির্দেশ আসতে থাকে। ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রী সেলসিয়াসে শরীরে চূড়ান্তভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। তাপমাত্রা ৪২-এ উঠলে মানবশরীর তার কার্যক্রম স্থগিত করে।
পৃথিবীর অঞ্চলভেদে এর কমবেশি তারতম্য ঘটে।
নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কেননা, সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে আর্তদের সংখ্যাতীত উপস্থিতিতে। এমনকি মর্গগুলোও লাশের ধারণক্ষমতা হারাচ্ছে।
এরই মধ্যে করাচিতে চলছে ভয়াবহ বিদ্যুৎহীনতা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় কাজকর্ম ব্যাহত তো হচ্ছেই, কর্মীদেরও নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। দাবদাহ চলাকালে বাইরে থাকাও নিরাপদ নয়।
ইদি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নামে এক সংগঠনের মুখপাত্র আনোয়ার কাজমি জানান, মর্গের তাপানুকূল ব্যবস্থা বিদ্যুৎহীনতায় পড়েছে হুমকির মুখে। এভাবে বেশিক্ষণ চলতে থাকলে মরদেহ পচতে শুরু করবে।

