লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দেশের বহুল আলোচিত দহগ্রাম আঙ্গরপোতা ছিটমহলটি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত। বহু আন্দোলন সংগ্রাম করে ১৯৯২ সালের ২৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটমহলবাসী ভারতের তিন বিঘা করিডোর ব্যবহার করে সারাদিনে মাত্র ছয় ঘণ্টা বাংলাদেশের মূল ভূ-খণ্ডে যাতায়াতের সুযোগ পান। সে সময় থেকে ছিটমহলবাসী দিনটিকে দহগ্রাম আঙ্গরপোতা মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। তবে এখনও বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে পারেননি তারা।
২৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দহগ্রাম আঙ্গরপোতা ছিটমহলটির ২২ হাজার নাগরিকের যাতায়াতের জন্য তিন বিঘা করিডোর গেটটি ১৯৯২ সালের ২৬ জুন থেকে সারাদিনে মাত্র ছয় ঘণ্টা ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে শুধু দিনের বেলা ১২ ঘণ্টা চলাচল করতে পারতেন দহগ্রামবাসী। ফলে সে সময় রাতের ১২ ঘণ্টা এখানকার অধিবাসীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল মূল ভূ-খণ্ডের সঙ্গে। এমনকি হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার জন্য উপজেলা বা জেলা সদরে নেয়াও ছিল অসম্ভব ব্যাপার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে ২০১১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর করিডোর গেটটি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়ে তাদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। একই বছরের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দহগ্রাম আঙ্গরপোতা সফর করেন এবং করিডোর গেট দিয়ে ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
তবে করিডোর গেট দিয়ে সেখানকার মানুষজন ২৪ ঘণ্টা যাতায়াতের সুযোগ পেলেও রয়েছে নানা সমস্যা। সেখানে চলাচলকারী মানুষ প্রায়ই করিডোরে বিএসএফের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা গবাদিপশু ক্রয় করে দহগ্রামে নিতে পারছেন না। এমনকি পাটগ্রাম উপজেলা সদর হাটে গবাদিপশু বিক্রির জন্য আনাতে বিধিনিষেধ মানতে হচ্ছে। প্রতি হাটে ৩০টির বেশি গরু নিতে পারেন না। করিডোর দিয়ে চলছে না কোনো যাত্রীবাহী বাস। একমাত্র হাসপাতালটিতে নেই কোনো সেবা। অধিকাংশ সময়ই থাকে বন্ধ। শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য মহাবিদ্যালয় চালুর দাবি থাকলেও আজও তা পূরণ হয়নি।
অন্যদিকে, তিস্তা নদীর ভাঙনে ছোট হয়ে আসছে দহগ্রাম। ২৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দহগ্রাম আঙ্গরপোতা ছিটমহলটির অর্ধেকই এখন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, ১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়ন করে মূল ভূ-খণ্ডে যাতায়াতে ২৪ ঘণ্টা অবাধে যাতায়াতের সুযোগ পেলেও বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাননি দহগ্রামবাসী।

