পাঞ্জেরী ডেস্ক : ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস ও ইতালিতে যাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে ৪০ হাজার জনকে আগামী দুই বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় আশ্রয় দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে রাতভর আলোচনায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান ইইউ নেতারা।
সম্মেলনের চেয়ারম্যান ডোনাল্ড টুস্ক বলেন, ‘৪০ হাজার অভিবাসীকে আগামী ২ বছরের মধ্যে ইউরোপের অন্যান্য দেশে স্থানান্তর করা হবে। তবে কোনো দেশের জন্য কোটা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি।’
গ্রিসের ঋণ সঙ্কট নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। তবে বৃহস্পতিবারের আলোচনার পরেও গ্রিস এবং দেশটিকে ঋণদানকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অচলাবস্থার নিরসন হয়নি।
এর আগে ব্রাসেলস সম্মেলনের চেয়ারম্যান টুস্ক সদস্যভুক্ত সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান, নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসী প্রত্যাশীদের ভাগ করে নেয়ার জন্য।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার নতুন তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, নৌকাযোগে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এবার ঋণ সঙ্কটে জর্জরিত গ্রিসে ৬৩ হাজার এবং ইতালিতে ৬২ হাজার অভিবাসী প্রত্যাশী আশ্রয় নিয়েছেন। ইইউ নেতারা এই ১ লাখ ২৫ হাজার অভিবাসী থেকে ৪০ হাজারকে আগামী ২ বছরে সদস্যভুক্ত বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরে রাজি হয়েছেন।
বৈঠক শেষে টুস্ক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইইউ দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামী জুলাই নাগাদ বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। ইইউ নেতারা ইউরোপের বাইরে থেকে আসা ২০ হাজার অভিবাসীকেও পুনর্বাসন করবেন।’
ব্রাসেলস থেকে বিবিসির সংবাদদাতা ড্যামেইন গ্রামাটিকাস জানান, বুলগেরিয়া ও হাঙ্গেরীকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। কারণ, বুলগেরিয়া থেকেই হাজার হাজার লোক স্থলসীমা পাড়ি দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। হাঙ্গেরিতে এমনিতে দারিদ্র্যপীড়িত লোকের সংখ্যা বেশি।
ই্ংল্যান্ড নিজেকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেছে। আর পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো কোটা নির্দিষ্ট করে দেয়ার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইংল্যান্ড ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর এই ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইতালি।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যাটিও রেনজি ওই পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত দাবি করে অভিবাসন সঙ্কট সমাধানে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে আরো জোরদার সহযোগিতা চেয়েছেন।

