ঢাকাSaturday , 16 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলপথে সংস্কার চলছে

Link Copied!

raillচাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের ৫৭ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কার কাজ ৬ বার বন্ধ হয়ে যাবার পর আবারো চালু হয়েছে। ১শ’ ৬৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে মিটারগেজ রেললাইন, রেলপথের ব্রিজ ও স্টেশন সংস্কার করা হচ্ছে।
এর মধ্যে মিটারগেজ লাইন বসানো ও রেললাইনের ব্রিজের জন্য প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১১৮ কোটি টাকা। বাকি ৫০ কোটি টাকার কাজ করা হবে বিভিন্ন স্টেশন ভবন সংস্কারে।
ভারতীয় কালিন্দি কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় এ পথের কাজ আরম্ভ হওয়ার পর বিভিন্ন কারণে এ পর্যন্ত ৬ বার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভারতীয় এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় দ্রুতগতিতে রেলপথের কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের জুন মাসে কাজ শেষ হবে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কুমিল্লা) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ বছরের জুন মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে। কাজ শেষ হওয়ার পর ৫৭ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রম করতে আগে যেখানে ২ ঘণ্টা সময় লাগতো সেখানে মাত্র ৪৫ মিনিট সময় লাগবে।
২০১২ সালে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের উন্নয়নে একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১শ’ ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। চাঁদপুর জেলা তথা দক্ষিণাঞ্চলীয় হাজার হাজার যাত্রী এ পথে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে। যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এ রেলপথের উন্নয়নের পরিকল্পনা করে সরকার।
ব্রিটিশ শাসনামলে প্রায় ২শ’ বছর আগে এ রেলপথ স্থাপন করা হয়। সেই সময় থেকে এ পথের উন্নয়নে কোনো বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে এ সংস্কারের লক্ষ্যে রেলপথ, ব্রিজ, স্টেশন ভবন ও ডিজিটাল পদ্ধতির সিগনালের কাজ হাতে নেয়া হয়।
টেন্ডারে ৫৭ কিলোমিটার রেলপথ উন্নয়নের কাজ পায় ভারতীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কালিন্দি কোম্পানি। ২০১২ সালের ৩০ মার্চ তারা হাজীগঞ্জ থেকে কাজ শুরু করে। ১ বছরের মধ্যে ২০১৩ সালের ৩০ জুনে কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করে দেয়া হয়। ভারতীয় কোম্পানির জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ৪ বছরে ৬ বার কাজ শুরু করে, আবার বন্ধ করে রাখে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত এ কোম্পানিকে কাজের সময়সীমা ৫ বার বর্ধিত করে দেয়া হয়। রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান, ২০১৪ সালে কালিন্দি কোম্পানি চট্টগ্রাম আজমাইন ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেয়। সেই কোম্পানি ২ বারই কাজ শুরু করে বন্ধ করে দেয়। অবশেষে ভারতীয় কোম্পানি তাদের বিরাট অঙ্কের জামানতের অর্থ ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আবার কাজ শুরু করে।
তারা জানায়, সংস্কারের ফলে আগে রেলপথ যে অবস্থায় ছিল তার চাইতে ১ ফুট উঁচু হবে। পুরাতন রেলপথ খুলে ফেলে দিয়ে নতুন কংক্রিট-স্লিপার বসিয়ে ৭৫ পাউন্ড ওজনের রেলপাত স্থাপন করা হচ্ছে। এর আগে ৬০ পাউন্ড রেলপাত ছিল এ পথে। ফলে এ পথে ২৫/৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করে। পুরো কাজ শেষ হলে ট্রেন চলাচল করবে ঘণ্টায় ৭২/৭৫ কিলোমিটার গতিতে। এতে সময় বাঁচবে সোয়া ১ ঘণ্টা।
লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএসএ ই/পথ) মো. লিয়াকত আলী মজুমদার আরো জানান, এ পর্যন্ত ২৬ কি.মি. কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাজীগঞ্জ থেকে রেলপাত দ্রুতগতিতে বসিয়ে চাঁদপুরের কাছাকাছি ও চিতশী থেকে রেলপাত বসিয়ে শাহরাস্তি পর্যন্ত কাজ করে এসেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এ কাজে প্রতিদিন ১শ’ ৪৮ জন শ্রমিক দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় দ্রুতগতিতে পাকা ঢালাই করা স্লিপার বসানো ও নতুন রেললাইন বসানোর কাজ এগিয়ে চলছে। চাঁদপুর মধুরোড স্টেশন থেকে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে একগ্রুপ চাঁদপুরের দিকে অন্য গ্রুপ লাকসামের দিকে সংস্কার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।