অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর বৈদেশিক সাহায্যের (উন্নয়নকাজে দাতাদেশগুলোর সাহায্য) ওপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ফলে এ দেশগুলো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তাবায়নের জন্য নিজস্ব অর্থায়নের উপর নির্ভর করতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সিপিডি, এ্যান্ডপোভার্টি ২০১৫ এবং সাউদার্ন ভয়েস আয়োজিত ‘এশিয়া মহাদেশের বিবর্তনশীল অর্থায়নের হাল’ শীর্ষক সেমিনারে সিপিডি কথা জানায়। এতে কিনোট পেপার উপস্থাপন করেন সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
এসময় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘এশিয়া মহাদেশের বিবর্তনশীল অর্থায়নের চালচিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশগুলোর (উন্নয়নশীল) বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাচ্ছে। তারা উন্নয়নপ্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের অর্থায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। যদিও কেউ কেউ এখনো সাহায্য নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর রাজস্ব আদায়, রেমিটেন্স আহরণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে দেশগুলোর অর্থনীতি মিশে যেতে শুরু করেছে। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর কোনো ধরনের ঝড় এলে তা আমাদের ওপরও আসবে। তাই আমাদের এখন অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। শুধু এমডিজির উদ্দেশ্য পূরণেই নয়, এসব কারণেই আমাদের টেকসই উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
কিনোট পেপার উপস্থাপনকালে এশিয়ার দেশগুলোর মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্ণিত করা হয়েছে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সুগঠিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফরমের অভাবকে। এতে বলা হয়, অর্থায়ন বৃদ্ধির সঙ্গে এ দুটি বিষয়ের সংযোগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব না। এশিয়ার দেশগুলো সমন্বিত আঞ্চলিক সহযোগীতা খুব দ্রুত প্রয়োজন যাতে করে একে অন্যকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগীতা করতে পারবে। এছাড়া এ অঞ্চলের উন্নয়শীল দেশগুলোর সব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহিতার কাঠামো পরিবর্তন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এসময় পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের বিশ্ব ব্যাংকের পোভার্টি গ্লোবাল প্র্যাকটিস ম্যানেজার ও অর্থনীতিবিদ সালমান জাইদি এমডিজি লক্ষ্য পূরণের জন্য তথ্য সুরক্ষায় সমৃদ্ধ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর শক্তিশালী উন্নয়ন, সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি খুবই জরুরি বলে জানান তিনি। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এমডিজি বাস্তবায়ন বেশ চ্যালেঞ্জ বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পণামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষার হার বেড়েছে, দারিদ্র্য কমেছে। আমরা রপ্তানি বাণিজ্যের পাশাপাশি দক্ষ মানব সম্পদ বিদেশে পাঠিয়ে অনেক রেমিটেন্স আয় করি। এদেশের সরকার ব্যবসার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে বিষেশভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এদেশে ৭০ শতাংশ বেসরকারি এবং ৩০ শতাংশ সরকারি বিনিয়োগ। এসব কিছুর উপরই ধীরে ধীরে আমাদের দেশের অর্থনীতি শক্তিশালি ভীত পাচ্ছে।’
এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দ্রুত দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, শিক্ষায় অগ্রাধিকার, কাঠামোগত উন্নয়ন, স্বাস্থ, সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নত অর্থনীতির ওপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করছি এবং করবো।’
সিপিডরি নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নিউইয়র্ক ভিত্তিক ইউএন মিলেনিয়াম ক্যাম্পেইন এর সহকারী পরিচালক সেরিং ফালু নিজে, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আরস্ত খান, এডিপির সাবেক পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয় রাষ্ট্রদূত এইচইলি উ-ইয়ং, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়ার্টকিনসসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকরা।

