নিজস্ব প্রতিবেদক : মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএ,পাউবো, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছে একটি মহল। পাশাপাশি মংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-পথের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যুক্ত ২৩৩টি খালের সব অবৈধ বাঁধ অপসারণ ও চিংড়িঘের উচ্ছেদেরও দাবি জানানো হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে কমরেড মণি সিংহ সড়কের মুক্তি ভবনে নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত ‘সুন্দরবন রক্ষাসহ জাতীয় অর্থনীতিতে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথের গুরুত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
অরিকল্পিত বাঁধ অপসারণের আহ্বান জানিয়ে দৈনিক মানবকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক আশীষ কুমার দে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন ও এর প্রাণ-বৈচিত্র্য রক্ষা এবং মংলা সমুদ্রবন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য স্থানের পণ্য পরিবহনে সুবিধার জন্য সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ চালু করা অপরিহার্য। তবে এ ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হচ্ছে নৌপথের সঙ্গে যুক্ত দু’শতাধিক সরকারি খালের অবৈধ বাঁধ, সহস্রাধিক চিংড়িঘের এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত স্লুইসগেট। তাই এ নৌপথ খনন প্রকল্পের শতভাগ সফলতা পেতে রামপালের ফয়লাহাটে পাউবোর অপরিকল্পিত স্লুইসগেট বন্ধ, সব খালের বাঁধ অপসারণ, খালের ভেতরের অবৈধ চিংড়িঘের উচ্ছেদ করতে হবে।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) ভোলানাথ দে, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. আব্দুর রহীম, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, সিটিজেনস রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুসার রেহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, পীসের সাধারণ সম্পাদক ইফমা হুসেইন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান তারিখ চৌধুরী, কার্গো ভেসেলস ওনার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিদ্দীকুর রহমান এবং নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব সেকেন্দার হায়াত।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. আবদুল মতিন, পরিচালক (হিসাব) আব্দুল আউয়াল, সাবেক পরিচালক এমদাদুল হক, নারায়নগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ড্রেজিং) ছাইদুর রহমান, বাংলাদেশ রিভার্স ট্রান্সপোর্ট এজেন্ট ও ওনার্স এসোয়িশেনের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

