লালমনিরহাট প্রতিনিধি : দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থল সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল ভারতীয় লোকসভায় পাস হওয়ার পরে আনন্দে ভাসলেও নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছিটমহলের বাসিন্দারা। ভারত সরকার ছিটবাসীদের পুনর্বাসনে পর্যাপ্ত বরাদ্দ ঘোষণা করলেও বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে এখনও কিছুই বলেনি। তাই পুনর্বাসনের ব্যাপারে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা গিয়েছে লালমনিরহাটের ছিটমহলবাসীদের মধ্যে।
শুক্রবার সকালে লালমনিরহাটের ৬১ ছিটমহলের বাসিন্দারা সমাবেশ করে এ দুশ্চিন্তার কথা প্রকাশ করে। ছিটবাসীরা তাদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণার দাবি জানায়।
তাদের অভিযোগ, ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেও এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো কর্মকর্তা ছিটমহলে আসেন নি। ছিটবাসীরা এ কারণে অনেকটাই হতাশ হয়ে তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সমাবেশ করেছে।
লালমনিরহাটের ছিটমহলের নেতা আজিজুল ইসলাম জানান, ছিটমহল বিনিময় চুক্তি পাসের এক সপ্তাহ অতিক্রম হলেও বাংলাদেশ সরকারের কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা ছিটমহল পরিদর্শনে আসেননি। এছাড়া পুনর্বাসনের জন্যও নিধারণ করা হয়নি কোনো অর্থ বরাদ্দ। তাই ছিটবাসীদের মধ্যে হতাশা দানা বেঁধেছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর গোতামারী ১ নং ছিটের বাসিন্দা সুলতান হোসেন(৭০), ছকবার আলী(৬৮), আব্দুল বাতেন(৮০) অনেকটা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার প্রত্যাশা ছিল দীর্ঘদিনের। সে প্রত্যাশা আজ পূরণ হতে চলেছে। তবে মিডিয়ায় দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ছিটবাসীর পুনর্বাসনের কোনো ঘোষণা নেই। তাছাড়া এ ছিটমহলে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো কর্মকর্তা আসেন নি। সরকার আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করলে কি মানবেতর জীবন যাপন করতে হবে? এমন প্রশ্ন করেন বৃদ্ধ সুলতান হোসেনসহ অনেকেই।
উত্তর গোতামারী ১ নং ছিটের বাসিন্দাদের মধ্যে আজিমন নেছা(৭০), ছপিয়া বেওয়া(৬৫), রোকেয়া বেওয়া(৬৮) বলেন, ‘অনেক কষ্টের পর আজ হামরা বাংলাদেশি হইচি বাহে।’ বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তারা গৌরব বোধ করছেন। তবে তাদের দাবি, বাংলাদেশ সরকার যেন তাদের উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন।
ছিটমহল বিনিময় ও সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের লালমনিরহাট জেলা কমিটির সভাপতি ময়নুল হোসেন বলেন, ‘ছিটবাসীর পুনর্বাসনের ঘোষণা না আসায় অনেকে দোদুল্যমান রয়েছেন। কেউ কেউ পুনর্বাসনের আশায় ভারতীয় নাগরিক হওয়ার চিন্তা করছেন। তবে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রতীক্ষায় রয়েছেন ছিটবাসীরা।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান ছিটবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, জেলার ৬১টি ছিটমহলে নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে যখন যা সিদ্ধান্ত আসবে তাৎক্ষণিক ভাবে ছিটমহলবাসীর কাছে পৌঁছানো হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনেক বাধা অতিক্রম করে অবশেষে গত ৭ মে সর্বসম্মতিক্রমে ভারতের লোক সভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিল পাস হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের মুক্তি মেলে নিজ ভূখণ্ডে বাস করা ভিনদেশি ছিটমহলবাসীদের। দু’দেশের ১৬২টি ছিটমহলের অর্ধলক্ষাধিক অধিবাসী মুক্ত জীবনের আশায় আনন্দে উদ্বেলিত।

