নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন অকেজো থাকার পর অবশেষে রাজধানীতে চালু হলো টাইম কাউন্টার ট্রাফিক সিগন্যাল। এর মাধ্যমে সনাতনী পদ্ধতিতে পুলিশের মুখের বাঁশি আর হাতের ইশারার দিনের অবসান হচ্ছে। শুক্রবার সকাল রাজধানীর কাকলী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১২টি ইন্টারসেকশনে বা মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে টাইম কাউন্টার সিগন্যাল চালু করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পুলিশের সহায়তার কাজটি শুরু হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক সিহাব উল্যাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মহানগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে আমাদের অত্যাধুনিক কাউন্টডাউন টাইমার পদ্ধতি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে কাকলী থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ১২টি ইন্টারসেনশনে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে কাজটি চালু হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিটি ইন্টারসেকশনে এ পদ্ধতিতে ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হবে।’ এরই মধ্যে তিনি ও পুলিশের সহকারী কমিশনা মোসলেহ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলেও তিনি জানান।
এদিকে সরেজমিনে রাজধানীর বাংলামোটরে দেখা গেছে, সেখানে যানবাহন এখন ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় চলছে না। কাউন্ট ডাউন টাইমারের নির্দেশনায় অটোমেটিক সিগন্যাল-ব্যবস্থায় গাড়ি চলছে। পথচারীরাও একই পন্থা অনুসরণ করে ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং হয়ে সড়ক পার হচ্ছেন। এ পদ্ধতিটি চালু হওয়ায় চালকের পাশাপাশি পথচারীরাও বেশ খুশি।
মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ীগামী বিকল্প পরিবহনের একটি বাসের চালক শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘পদ্ধতিটি চালু হওয়ায় আমরা বেশ খুশি। আমরাও চাই যানজট কমুক। ট্রাফিক সিগন্যালে আধুনিকায়ন আসুক। পুলিশের মাস্তানি আর সহ্য হয় না।’
এর আগে বেশ কয়েকবার অত্যাধুনিক এ পদ্ধতিটি চালু করা হলেও সফল হয়নি। এ বিষয়ে ডিসিসির কর্মকর্তা সিহাব উল্যাহ বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশের অসহযোগিতার কারণেই এতে সফল হওয়া যায়নি। কিন্তু দুই সিটি করপোরেশনে নতুন অভিভাকক আসায় বিষয়টি নিয়ে এখন এগুতে হচ্ছে পুলিশকে।’
ডিসিসি সূত্র জানায়, মহানগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০০১-০২ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গৃহীত ‘ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ‘নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ-কেইস’ প্রকল্প হাতে নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৭০টি সড়ক মোড়ে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি বসানো হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির আওতায় ৪০টি ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ৩০টি ইন্টারসেকশন রয়েছে। এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়। ২০০৮ সালের শেষের দিকে প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়।
পরে ২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর প্রচারণার অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়। পরীক্ষামূলক প্রচারাভিযানে চালক ও পথচারীদের মধ্যেও এ সিগন্যাল পদ্ধতি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে উঠছিল অনেকটাই। কিন্তু কিছুদিন পর তা আবার শিথিল হয়ে যায়। একপর্যায়ে ডিসিসি-পুলিশ দ্বন্দ্বের জেরে ট্রাফিক পুলিশ ওই সিগন্যাল বাতি অনুসরণ না করে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। তাদের দাবি ছিল ডিসিসি তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার সমন্বয় ছাড়া কাজটি সম্পন্ন করেছে।
পরবর্তীতে আবারো বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নেই ২০১০-১১ অর্থবছরে গৃহীত কেইস প্রকল্পের আওতায় ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের ৩০টি ট্রাফিক ইন্টারসেকশনের মধ্যে ২৮টি এবং দক্ষিণের ৪০টি ইন্টারসেকশনের মধ্যে ৩৬টিসহ মোট ৬৪টি ইন্টারসেকশনে সোলার প্যানেল, টাইমার কাউন্ট-ডাউন, ইনভার্টার, কনভার্টার, কন্ট্রোলার ও ক্যাবল স্থাপন করা হয়। ২০১৪ সালের শেষের দিকে এর কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরের ২৮টি এবং দক্ষিণের ২৫টি ট্রাফিক ইন্টারসেকশনে সোলার নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক সিগন্যাল চালু রয়েছে।

