চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : অন্ধ মানুষকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল। ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি এখন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের অপেক্ষায়। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আশপাশের চারটি জেলার চক্ষু রোগীরা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন।
বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা ২০০১ সালে চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ও অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান ও বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব মো. মঈনুদ্দিন মণ্ডল ২০০১ সালে শহরের বালিগ্রামে ০.৪৫২০ একর জমি অন্ধকল্যাণ সমিতিকে হস্তান্তর করেন। অন্ধকল্যাণ সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এ কে এম খাদেমুল ইসলামের প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয় তলা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ।
অত্যাধুনিক হাসপাতালটি নির্মাণ কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। প্রায় দুই হাজার ৮০৮ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে হাসপাতালটিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি জেনারেটর ও একটি লিফট সুবিধা রয়েছে। চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণে সরকার ৭১.২ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ অন্ধকল্যাণ সমিতি ২৮.৮ শতাংশ অর্থ যোগান দেয়। তবে অন্ধ কল্যাণ সমিতি টাকার পুরোটায় যোগাড় করতে না পেরে ঋণের মাধ্যমে তা সংস্থান করে।
২০০৭ সালের জুলাই মাস থেকে একটি ভাড়া করা বাড়িতে চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও অপারেশন অব্যাহত রেখেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ অন্ধকল্যাণ সমিতি। এই চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ অন্ধকল্যাণ সমিতির সভাপতি পিজি হাসপাতালের সাবেক পরিচালক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো.আয়াজ উদ্দিন।
বাংলাদেশ অন্ধকল্যাণ সমিতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী এ কে এম খাদেমুল ইসলাম জানান, বহু প্রতিক্ষিত চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর স্বপ্ন অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৬ মে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে হাসপাতালটি নতুন উদ্যোমে যাত্রা শুরু করবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের আর্থিক সহায়তায় পূর্ণাঙ্গ চক্ষু হাসপাতাল চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার চক্ষু রোগীদের নামমাত্র অথবা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে অন্ধত্ব নিবারণ ও নিরাময় সম্ভব।

