আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বে শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় ইউরোপীয় দেশগুলিকে পেছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছে এশিয়ার পাঁচটি দেশ। আর সর্বনিম্ম অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলি।
বিজ্ঞান ও গণিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ভিত্তি করে তালিকাটি তৈরি করেছে অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ওসিইডি। কারণ শিল্পোন্নত দেশগুলিতে এ দুটি বিষয়ের ওপরই গুরুত্ব দেয়া হয় বেশি। তালিকায় শিক্ষার সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্পর্কের বিষয়টি দেখানো হয়েছে। ওসিইডির মতে শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব।
তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ১৯৬০ সালে দেশটিতে অশিক্ষার হার ছিল সবচেয়ে বেশি। অথচ বেশ দ্রুত সময়ে দেশটি সবচেয়ে বেশি শিক্ষিতের তালিকায় উঠে এসেছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানেই রয়েছে হংকং, উত্তর কোরিয়া, জাপান ও তাইওয়ান।
ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ইউরোপীয় দেশ ফিনল্যান্ড। তালিকায় যুক্তরাজ্য পেছনে ফেলে ১২ নম্বর অবস্থানে চলে গেছে এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম। ২০ নম্বর অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্যের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে এক তরুণ শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা শেষ না করেই স্কুল ছেড়ে দেয়। ওইসিডির মতে যুক্তরাজ্য যদি এ সংখ্যাটি কমাতে পারে এবং একই সঙ্গে দক্ষতা বাড়াতে পারে তাহলে তাদের অর্থনীতিতে হাজার কোটি ডলার অতিরিক্ত আয় যোগ হবে। তালিকায় ৭৬টি দেশের মধ্যে ২৮তম অবস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তালিকায় সর্বনিম্ম অবস্থানে রয়েছে ওমান, মরক্কো, হন্ডুরাস, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ঘানা।
তালিকায় এশিয়ার দেশগুলি এগিয়ে থাকার কারণ প্রসঙ্গে ওইসিডির শিক্ষা পরিচালক আন্দ্রিজ স্কিলিখার বলেন, ‘আপনি যদি এশিয়ার ক্লাসরুমগুলিতে যান তাহলে সেখানে দেখবে শিক্ষকরা তাদের প্রত্যেকটি ছাত্রের সাফল্য চাইছেন। সেখানে অনেক কঠোরতা, নজরদারি ও সঙ্গতি রয়েছে।’
ওইডিসি পরিচালিত পিআইএসএ টেস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাবিদদের পরিচালিত টিআইএমএসএস টেস্ট এবং ল্যাটিন আমেরিকার টিইআরসিই টেস্টসহ কয়েকটি আর্ন্তজাতিক মানসূচক পরীক্ষার ভিত্তিতে এই র্যাকিং করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি আগামী সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ব্শ্বি শিক্ষা ফোরামে উত্থাপন করা হবে।

