নিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে জড়িত আরো ১১ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার এক আবেদনের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর আগে ট্রাইব্যুনালে সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সংযুক্ত নতুন ১১ আসামির গ্রেপ্তার চেয়ে আবেদনের শুনানি করেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল ও প্রসিকিউটর সুলাতানা রেজিয়া। এসময় আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী আসগর আলী।
ট্রাইব্যুনাল যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তারা হলেন- যশোরের মো. ইব্রাহিম হোসেন, মো. বিল্লাল হোসেন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, মো. আব্দুল আজিম সরদার, মো. আজিম সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মো. লুৎফর মোড়ল, মো. আব্দুল খালেক মোড়ল, মো. আকরাম হোসেন, ওজিয়ার মোড়ল এবং মশিয়ার রহমান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের আদেশে ধানমণ্ডির সেফহোমে সাখওয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আবদুর রাজ্জাক খানসহ আরো দুই কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
গত বছরের ২৯ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরখান থেকে সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তদন্তের স্বার্থে সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্তে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সংস্থা জানায়।
সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে ৭১ সালে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যশোরে একাধিক মামলা রুজু করা হয়। পরে ওইসব মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ২০১২ সালের ১ এপ্রিল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করার জন্য নথিভূক্ত হয়। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন আবদুর রাজ্জাক খান।
সাখাওয়াত ১৯৯১ সালে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাবস্থায়ই তিনি জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন তিনি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন করে পরাজিত হন সাখাওয়াত।
এরপর ২০০১ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেও পরাজিত হন। পরে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরে তিনি এরশাদ নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

